সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- আসানসোলে আবারও চললো বুলডোজার, ভাঙা হল তৃণমূল কাউন্সিলারের অফিস। প্রসঙ্গত বাংলায় রাজনৈতিক পালা বদলের পর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ নির্মাণ। বাদ নেই আসানসোল শিল্পাঞ্চলও। এখানে বার্নপুরে সেল আইএসপি বা ইস্কো কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেছে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান। সেলের জমিতে অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
এই আবহে সোমবার আসানসোল পুরনিগমের ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর কাঞ্চন মুখোপাধ্যায়ের অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল কাউন্সিলর হয়ে আমি সর্বদা জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এই উদ্দেশ্যেই এই কার্যালয় তৈরি করা হয়েছিলো। রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ হঠাৎ আইএসপি আধিকারিকরা এসে অফিস সরাতে বলেন। আমি আইএসপি আধিকারিকদের কাছে ৩/৪ দিনের সময় চেয়েছিলাম যাতে অফিসের ভিতরে রাখা জিনিসগুলি সরানো যায়। কিন্তু এদিন সকালে বুলডোজার দিয়ে অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন,”বাংলার সরকার যদি উন্নয়নের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয় তাহলে আমি সরকারের পাশে আছি। সরকার বা আইএসপি কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।”
অন্যদিকে সেল আইএসপির তরফে জানানো হয়, এই অফিসগুলি অনুমতি ছাড়াই তৃণমূল কংগ্রেস বেআইনিভাবে তৈরি করেছিল। অনেকবার এই অফিসগুলি সরানোর জন্য নোটিশও দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে সেগুলি সরানো হয়নি। কিন্তু এখন বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। তার পরে গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাই পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সেল আইএসপি-এর জমিতে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত শনিবারই আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অশোক রুদ্রর বার্নপুর স্টেশন সংলগ্ন কার্যালয় ভেঙে দেয় সেল আইএসপি কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে বার্নপুর এলাকায় সেলের জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস ও ক্লাব ঘরেও চলে উচ্ছেদ অভিযান।


















