সন্তোষ কুমার মণ্ডল,দুর্গাপুরঃ- ইতিমধ্যেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। শুধু তাই নয় কলকাতায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী শিবিরের মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে যৌথভাবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখিও হন তিনি। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিল্পনগরীর রাজনৈতিক মহলে।
প্রসঙ্গত গত ১৩ জুন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়েছিল দলের তরফে। রাজ্য সরকারের পালা বদলের পর নতুন করে জেলা কমিটি গঠনের সময় এই দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। যদিও তার এক সপ্তাহের মধ্যেই গত শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে পদত্যাগের চিঠি দেন নরেন্দ্রনাথ। চিঠিতে তিনি জানান, “সোশ্যাল মিডিয়া মারফত খবর পেলাম যে আমাকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদে পুনঃ মনোনীত করা হয়েছে। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমার পক্ষে দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়। আমি পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি।”
শিল্পনগরীর রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পনগরীর রাজনৈতিক পরিসরে। অনেকে মনে করছেন, সম্পত্তি রক্ষার স্বার্থেই তিনি হয়তো দলবদল বা ‘ভালো তৃণমূল’ (বিদ্রোহী শিবির) হওয়ার পথে পা বাড়াচ্ছেন।
তবে এই ঘটনায় সবথেকে অনিশ্চিয়তা ও অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন নরেন্দ্র চক্রবর্তীর অনুগামীরা। যারা এত দিন ধরে বিশেষ করে রাজ্যে পালা বদলের পরও দলের সঙ্গে থেকেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লড়াই করে চলেছেন, তাদের এখন কি করণীয় ভেবে পাচ্ছেন না। তাদের নেতা কি আদৌ আর মূল তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন নাকি তারাও নেতাকে অনুসরণ করে বিদ্রোহী শিবিরের দিকে পা বাড়াবেন?
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “তৃণমূলের কিছু কর্মী এত দিন ধরে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের উপরে যে ভাবে অত্যাচার করেছেন, তাতে তো এ বার ওদের জেলে যেতে হবেই। এখন ওদের কোনও রাজনৈতিক অভিভাবক নেই। সত্যিই কী হবে, তা ভাবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে।”
















