সন্তোষ কুমার মণ্ডল, আসানসোলঃ- কেন্দ্রীয় সরকার ও এমপ্লয়িজ স্টেট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন আসানসোল ইএসআই হাসপাতালকে একটি নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার অনুমোদন দিয়েছে। সেন র্যালে রোডে ২০ একর চত্বরে অবস্থিত ইএসআই হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ৫০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ ও ৫০০০ রোগীর সুবিধা সংবলিত আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
এদিকে আসানসোল ইএসআই হাসপাতালকে মেডিক্যাল কলেজে উন্নীত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও চাকরি অনিশ্চয়তার অভিযোগ তুলে সোমবার আন্দোলনে নামলেন হাসপাতালের চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক, নার্স ও গ্রুপ-ডি কর্মীরা। এদিন তাঁরা হাসপাতালের মেন গেটের সামনে একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিষেবা দেওয়ার পর হঠাৎ মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে তাঁদের আর রাখা হবে না।
চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ডাঃ শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, “আমি ও আমার সহকর্মীরা গত ১৫ বছর ধরে হাসপাতালের পরিষেবা দিয়ে আসছি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের অনেক স্থায়ী চিকিৎসক ডিউটির সময় বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বার করলেও চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসকেরাই ২৪ ঘণ্টা পরিষেবার বড় অংশ সামলেছেন। অথচ এখন কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তাঁদের ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি চলছে।”
অন্যদিকে, চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ডাঃ অভিজিৎ মালাকার বলেন, “হাসপাতাল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে গেলে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে এতদিন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থান বদলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এতে প্রায় ৪৬ জন চুক্তিভিত্তিক ও পার্ট-টাইম চিকিৎসক এবং শতাধিক কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”
চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী রুপেশ দুবে বলেন, “২০১৭ সাল থেকে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছি। মেডিক্যাল কলেজ হওয়ার আগে কর্মীদের এখানেই রাখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন তা মানা হচ্ছে না।”
চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ও কর্মীদের একটাই দাবি, মেডিক্যাল কলেজ গঠনের নামে দীর্ঘদিনের কর্মীদের চাকরি কেড়ে নেওয়া যাবে না। তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে হবে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মানবিকভাবে বিবেচনার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা।


















