eaibanglai
Homeএই বাংলায়নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তা মেরামতে গ্রামের বাসিন্দারা

নিজেদের উদ্যোগেই রাস্তা মেরামতে গ্রামের বাসিন্দারা

সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- ভোট যায় ভোট আসে, সরকার পরিবর্ত হয়। কিন্তু গ্রামের কাঁচা রাস্তা পাকা হয়না। বর্ষায় জলে কাদায় ভোগান্তি চরমে ওঠায় অবশেষে নিজেরাই রাস্তা সারাইয়ের কাজে হাত লাগালেন গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনা বাঁকুড়া জেলার জঙ্গলমহলের রানিবাঁধ ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত খেড়িয়াশায় গ্রামের।

আদিবাসী এই গ্রামে প্রায় ৭০টি পরিবারের বসবাস। রাজাকাটা শিবমন্দির থেকে খেড়িয়াশায় গ্রামে ঢোকার প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত প্রায় ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের আমলেও, তার আগে সিপিএম সরকারের সময়েও এই রাস্তা সংস্কারের জন্য কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সারা বছরই এই রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে বর্ষাকালে সেই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামে অ্যাম্বুল্যান্স বা অন্যান্য যানবাহন ঢুকতে চায় না। এই পথ দিয়েই খেড়িয়াশায় গ্রামের পড়ুয়ারা রানিবাঁধ উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। পাশাপাশি জরুরি অসুস্থ রোগীদেরও এই রাস্তা দিয়েই রানিবাঁধ ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। ফলে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

এদিকে গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়েছে। কাদা ও গর্তে ভরা রাস্তা দিয়ে চলাচল কার্যত দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় বর্ষাকালের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে গ্রামের মানুষ নিজেরাই পাথর ও মোরাম ফেলে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয়দের বক্তব্য বর্তমানে নতুন সরকার সবে এসেছে। তাই সরকারের উদ্যোগের জন্য অপেক্ষা না করে আপাতত নিজেদের সমস্যার সমাধানে নিজেরাই কাজে নেমেছেন।

বিষয়টি নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করে বিজেপি জেলা সম্পাদক রানিবাঁধের দুঃখী মোদী বলেন, তৃণমূল সরকারের আমলে কাটমানির কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে নতুন সরকার এসেছে। এবার উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে তৃণমূলের রানিবাঁধ ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ চিত্তরঞ্জন মাহাতো কাটমানির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, রাস্তাটি পাকা করার জন্য পঞ্চায়েতের তরফে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কাজও শুরু হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দাবি হঠাৎ বালির দাম বেড়ে যাওয়ায় টেন্ডারে নির্ধারিত অর্থে কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই রাস্তার নির্মাণকাজ থমকে রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments