eaibanglai
Homeএই বাংলায়দখলদার উচ্ছেদে সরকারি নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, তিন পুর আধিকারিককে শোকজ

দখলদার উচ্ছেদে সরকারি নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, তিন পুর আধিকারিককে শোকজ

সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ– আসানসোলের জিটি রোডের বাজার লাগোয়া পার্কিং জোনে থাকা বেআইনি দখলদার উচ্ছেদ অভিযানে সরকারি নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে তিন পুর আধিকারিককে শোকজ করা হল। শনিবার দুপুর আসানসোল পুরনিগমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

মন্ত্রী বলেন, গত বৃহস্পতিবার মুখোমুখিতে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল প্রথমে রাস্তার ধারে অবৈধভাবে বসা দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হবে। তাদেরকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। দুর্গাপুজো ও ছটপুজোর কথা মাথায় রেখে বাজারের ভিতরের পুরনো হকারদের আপাতত উচ্ছেদ না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই আসানসোল পুরনিগমের তিন আধিকারিকের উদ্যোগে কিছু দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ১০ জুলাই শুক্রবার কিভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু আধিকারিক বা কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কাজ করে থাকতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সরকার তথা প্রশাসনের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তিনজনের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। সেই জবাব সন্তোষজনক না হলে তিন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গতঃ, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোল পুরনিগমে “মুখোমুখি” নামে একটি সরকারি প্রকল্পের সূচনা করেন। তাতে তিনি ফোনের মাধ্যমে নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বেআইনি দখলদারি নিয়ে অভিযোগ পেয়ে দুপুরের দিকে আসানসোল পুরনিগম মোড় থেকে হটন রোড মোড় পর্যন্ত পার্কিং জোন পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পার্কিং জোনে বেআইনি দখলদার দেখে ক্ষুব্ধ হন। সঙ্গে থাকা পুলিশ অফিসারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোল পুরনিগমের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের সাক্ষরিত একটি নোটিশ দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছিলো, রাহা লেন মোড় থেকে হটন রোড মোড় পর্যন্ত পার্কিং জোন ও ফুটপাতে থাকা অস্থায়ী দোকান ১৫ দিনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে। তা করা না হলে, ২৪ জুলাইয়ের পরে বেআইনি দখলদার হিসেবে উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু তারপরে শুক্রবার সকাল এগারোটা থেকে আচমকা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। যা নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।

এদিন ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, পুরনো হকারদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের নতুন বাজারে স্থান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের পিএম স্বনিধি প্রকল্পের আওতায় এনে স্বল্প সুদে ঋণের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন। জেলাশাসক ও প্রশাসক গোটা বিষয়টি দেখছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments