সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- বিজেপি নেতৃত্বের আশ্বাসবাণী সত্ত্বেও ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই আসানসোল শহর সহ গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়েছে। একের পর এক অপ্রীতিকর হিংসার ঘটনা সামনে আসছে।
মঙ্গলবার রাতে আসানসোলের কোর্ট মোড় সংলগ্ন বার্নপুর রোডে আসানসোল পুরনিগমের ৫২ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর মৌসুমী বসুর অফিসে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হয়। ওই অফিসের পাশে একটি কেকের দোকানেও সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। দমকলকর্মীদের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাচক্রে এই অফিসের অদূরে বিজেপি বিধায়কের দলীয় কার্যালয়।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন আসানসোল উত্তর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন ,”বিজেপির শীর্ষ নেতারা বলেছেন নির্বাচনের পর কোন হিংস বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু তারপরেও সারা বাংলা জুড়েই এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে। এটি বিজেপিকে বদনাম করার একটি ষড়যন্ত্র হতে পারে। আমি দলের মিটিংয়ে অফিসে ছিলাম। তখন কাউন্সিলার আমাকে এই আগুন লাগার খবর দেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাই। তারপরে এখানে আসি।” তিনি আরো বলেন, ” সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা হবে। এটা যদি দুর্ঘটনা হয়, তাহলে কোন কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি কেউ এই ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে অভিযোগ গত দুদিন ধরে আসানসোল শিল্পাঞ্চলজুড়ে একাধিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে আসানসোলে জেলাশাসক কার্যালয়ের এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন আসানসোলের পুলিশ কমিশনার ডাঃ প্রণব কুমার কুমার , জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এস পোন্নাবলম এবং ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর সুনীল কুমার সিং। সেখানে তারা স্পষ্ট করে জানান, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। কোনরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এদিন পুলিশ কমিশনার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “ইতিমধ্যেই অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও নজরদারি।” জেলাশাসক বলেন , “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে এবং শান্তি বজায় রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান এই হিংসার আবহে পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী মলয় ঘটক, তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, বারাবনির প্রাক্তন বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং জামুড়িয়ার প্রাক্তন বিধায়ক হরেরাম সিং বুধবার বিকেলে আসানসোলে পুলিশ কমিশনার অফিসে যান। পুলিশ কমিশনার উপস্থিত না থাকায় তাঁরা ডিসিপির সঙ্গে দেখা করেন এবং হামলার ঘটনার ছবি ও তথ্য তাঁরা পুলিশের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পরে প্রাক্তন মন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে এই জেলায় প্রায় ১ হাজার তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া হয়ে পড়েছেন। কয়েকশো পার্টি অফিস দখল করে নেওয়া হয়েছে বা সেগুলো ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত প্রধানদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমাদেরকে কাছে প্রতি ঘন্টায় তিন- চারটে করে এমন ঘটনার ফোন আসছে। বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা তাদের বার্তায় এমন ঘটনা না ঘটানোর জন্য বললেও বেশি করে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে।”


















