নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- চলতি খরিফ মরসুমে চাষের শুরুতেই রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কালোবাজারির অভিযোগ আসছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। সেই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামল পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসন। জেলা জুড়ে রাসায়নিক সারের বেআইনি মজুতদারি ও চড়া দাম নেওয়া রুখতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে।
অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ডিএপি সারের প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই অতিরিক্ত দাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। একইভাবে ‘নবরত্ন’ সারও কয়েকশো টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আমন ধান চাষের সময়ে চাষিদের ব্যাপক আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
চাষিদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সার সময়মতো না পাওয়া এবং অতিরিক্ত দামে কিনতে বাধ্য হওয়ার কারণে চাষাবাদের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সোমবার কাঁকসা এবং দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের এবং দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর বেশ কিছু কৃষি অধ্যুষিত এলাকায় একাধিক সার বিক্রয় কেন্দ্র ও দোকানে অভিযান চালায় কৃষি দপ্তর এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। মজুত, বিক্রির নথি, মূল্য তালিকা এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
এই বিষয়ে জেলাশাসক পন্নামবলাম এস বলেন, “এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে। আর অভিযোগ এলেই সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনওভাবেই সারের কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না।”
চাষিদের হয়রানি বন্ধ করতে জেলার প্রতিটি প্রান্তে এই নজরদারি লাগাতার জারি থাকবে বলেও তিনি জানান।