সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- কর্মরত দুই ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যুতে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাালে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা। ঠিকাদারি সংস্থার দেওয়া ক্ষতিপূরণের অঙ্ক প্রত্যাখ্যান করে, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনের চাকরির দাবিতে হাসপাতালের মর্গের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন মৃতদের পরিজন ও সহকর্মীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেহ নিতে অস্বীকার করেছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা থানার রাজবাঁধে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কাজ করছিলেন ৬ জন ঠিকা শ্রমিক। তাঁরা প্রত্যেকেই ভারতীয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনস্থ একটি সংস্থার কর্মী ছিলেন। সেই সময় একটি তীব্র গতিসম্পন্ন কন্টেনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে তাঁদের ধাক্কা মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছয়জনকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি চারজন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। মৃত শ্রমিকদের নাম কাশীনাথ ভট্টাচার্য (৪৮) এবং বিধান বাউড়ি (৩২)। তাঁরা যথাক্রমে গলসি ও গোপালপুরের বাসিন্দা।
রবিবার সকাল থেকেই ঘটনার মোড় ঘোরে ক্ষতিপূরণের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে। ঠিকাদারি সংস্থা মৃতদের পরিবারকে মাত্র ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রস্তাব দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিক ও পরিজনেরা। সংস্থার ম্যানেজারের এই ঘোষণার পরই দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, মৃতদের পরিবারকে অন্তত ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং পরিবারের একজনকে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত মর্গ থেকে দেহ তোলা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তাঁরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, ঠিকাদারি সংস্থার ম্যানেজারের দাবি, নিয়ম মেনেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, তবে তার পরিমাণ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই চূড়ান্ত করবে।