সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- ধর্ম তাই যা আমরা ধারণ করে থাকি, আমাদের ধর্মের মধ্যেই রয়েছে সকল প্রশ্নের উত্তর। কীভাবে আমরা জীবন যাপন করব, আমাদের কী করা উচিত বা কী করা উচিত নয় সমস্ত কিছু নিহিত রয়েছে ধর্মের মধ্যেই। একবার একজন ভক্ত প্রশ্ন করেছিলেন,“কখনো কোনো কাজে একটু বিভ্রান্ত হই। করবো কিনা সন্দেহ ওঠে মনে। ঠিক করছি কিনা বুঝতে পারিনা। কি করা উচিত এই অবস্থায়?”
স্বামী সোমেশ্বরানন্দ মহারাজ খুব সুন্দরভাবে এর উত্তর দিয়েছেন। গীতা ও উপনিষদের ভিত্তিতে উত্তর দিয়ে মহারাজ বলেছেন,“ তোমার সমস্যা হলো সিদ্ধান্ত নিয়ে। কোন সিদ্ধান্ত নেবে সেটা বুঝতে পারো না কখনো, এই তো? এ-বিষয়ে অনেক বই আছে ম্যানেজ্মেন্টে। তবে এখানে আমরা আলোচনা করবো গীতা ও উপনিষদের ভিত্তিতে। সংক্ষেপে তিনটি দিকে নজর দাও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় :
১। নিরপেক্ষ দৃষ্টি । (গীতা)
২। স্বার্থ নয়, সার্বিক হিত বা কল্যাণ। (গীতা)
৩। প্রেয়-শ্রেয় বা পরিণতি বিচার। (উপনিষদ)
নিরপেক্ষতা- আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিওনা। মনে যদি প্রেম-দয়া বা রাগ-দু:খ থাকে তবে অপেক্ষা করো। কারণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব মন শান্ত থাকলে, ঠিকভাবে বিচার করতে পারলে। আবেগের বশীভূত না হয়ে জোর দাও তথ্যের উপরে। বাস্তব তথ্য কী বলছে?
সার্বিক কল্যাণ- চিন্তা করো এই সিদ্ধান্ত কি শুধু স্বার্থসিদ্ধির জন্য অথবা ন্যায়প্রতিষ্ঠার জন্য? এতে কি সমাজ লাভবান হবে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত ? যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছো এরফলে তুমি কি সমাজকে বন্ধু করে তুলছো অথবা শত্রু?
সিদ্ধান্তের পরিণতি- উপনিষদে দুই রকম কাজের কথা বলা হয়েছে, প্রেয় ও শ্রেয়। যে কাজের ফল বর্তমানে আনন্দ দেবে কিন্তু ভবিষ্যতে দুঃখ, সেটা প্রেয়। আর যে কাজ বর্তমানে কষ্টকর কিন্তু ভবিষ্যতে আনন্দ দেবে সেই কাজ হলো শ্রেয়। এখন দেখো, তুমি যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছো তার পরিণতি কী? প্রেয় না শ্রেয়? উপনিষদ বলছে, শ্রেয় কাজই কল্যাণকর।”



















