সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য জমি হারানো আদিবাসী পরিবারগুলির অধিকার আদায়ে সহ পাঁচ দফা দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলনের ডাক দিল আদিবাসী গাঁওতা। আগামী ১ সেপ্টেম্বর পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসকের দফতরে যে গণডেপুটেশনের ডাক দেওয়া হয়েছে সংগঠনের তরফে। বুধবার বিকেলে দুর্গাপুরের ভগত সিং স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির পক্ষ থেকে এই ঘোষণা করা হয়। এই কর্মসূচিতে ইউনাইটেড ফোরাম-সহ জেলার একাধিক গণসংগঠন ইতিমধ্যে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃত্ব অভিযোগ করেন, কয়লা খনি সম্প্রসারণ ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রকল্পের কারণে জেলার বহু আদিবাসী পরিবার জমি ও বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। বিশেষ করে শালডাঙ্গা-সহ একাধিক আদিবাসী প্রধান এলাকায় উচ্ছেদ এবং জমি সংক্রান্ত নোটিশ জারি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদিবাসী গাঁওতার স্পষ্ট বার্তা— উন্নয়নের নামে কোনোভাবেই আদিবাসীদের উচ্ছেদ করা চলবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি, জল, জঙ্গল এবং জীবিকার অধিকার সবার আগে সুরক্ষিত করতে হবে।
এর পাশাপাশি দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পুরোনো প্রতিশ্রুতিকে ঘিরেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে সংগঠনটি। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতাল তৈরির সময় জমি হারানো আদিবাসী পরিবারগুলির অন্তত একজন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও এখনও বহু পরিবার সেই চাকরির সুযোগ পায়নি। এই প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে আদিবাসী গাঁওতা। এর পাশাপাশি এলাকার আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি অনুদান পুনরায় চালু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার দাবিও জানানো হয়েছে।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর জামুড়িয়া এলাকার শালডাঙ্গা গ্রাম থেকে একটি প্রতিবাদী পদযাত্রা শুরু হবে। এই দীর্ঘ পদযাত্রাটি আসানসোলে গিয়ে শেষ হবে এবং সেখানেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা শাসকের দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়ে গণডেপুটেশন দেওয়া হবে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের আদিবাসী পরিবার, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও যুব সমাজকে এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।