সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- সমস্ত প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে হিমাচল প্রদেশের অন্যতম দুর্গম শৃঙ্গ 'মাউন্ট ইউনাম' (Mount Yunam) জয় করলেন অণ্ডালের তিন বাঙালি তরুণ। 'অণ্ডাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার অ্যাসোসিয়েশন'-এর তিন সদস্য প্রিয়ম সম্মদার, সানি কুন্ডু এবং সায়ক চ্যাটার্জি গত ২৮ আগস্ট সাফল্যের সঙ্গে ৬,১১১ মিটার উচ্চতার এই বিপজ্জনক শৃঙ্গে আরোহণ করে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ান। তিন বীর সন্তানের এই সাফল্যে অণ্ডাল খনি অঞ্চল জুড়ে এখন উৎসবের মেজাজ।
অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট আট সদস্যের এই অভিযাত্রী দলটির যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ২১ আগস্ট অণ্ডাল থেকে। চণ্ডীগড় হয়ে প্রথমে মানালি পৌঁছান তাঁরা। এরপর পার্বত্য আবহাওয়া ও উচ্চতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে ধাপে ধাপে জিসপা ও ভারতপুর অতিক্রম করে দলটি ক্রমশ ওপরের দিকে উঠতে থাকে। গত ২৬ আগস্ট প্রায় ৫,১৪০ মিটার উচ্চতায় মাউন্ট ইউনামের মূল বেস ক্যাম্পে পৌঁছান অভিযাত্রীরা। সেখানে একদিনের চূড়ান্ত শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি পর্ব সারেন তাঁরা।
চূড়া ছোঁয়ার চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয় গত ২৮ আগস্ট মাঝরাতে। রাত তখন ২টা ৫৫ মিনিট। হিমাচলের হাড়কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা ও তীব্র হাওয়াকে সঙ্গী করে বেস ক্যাম্প ছাড়েন প্রিয়ম, সানি ও সায়কেরা। খাড়া পাথুরে দেওয়াল, আলগা বরফ আর অক্সিজেনের ঘাটতির মতো চরম শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা দিতে দিতে এগোতে থাকে দল। অবশেষে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে, ওই দিনই সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে ৬,১১১ মিটার উচ্চতার মাউন্ট ইউনামের চূড়ায় পা রাখেন তিন অভিযাত্রী। তাঁদের এই ঐতিহাসিক আরোহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন দুই স্থানীয় উচ্চতাজনিত সহায়কও।
আট সদস্যের এই অভিযানে তিন জন মূল শৃঙ্গে পৌঁছালেও, দলের বাকি সদস্যদের অবদানও কম ছিল না। পাহাড়ের অত্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়া ও আচমকা শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাকি সদস্যরা প্রায় ৫,৮০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছানোর পর নিচে নেমে আসতে বাধ্য হন। তবে স্বস্তির বিষয়, অভিযানের শেষে দলের সমস্ত সদস্যই অত্যন্ত নিরাপদে বেস ক্যাম্পে ফিরে এসেছেন।
অণ্ডাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিয়ম সম্মদার এবং সম্পাদক বিনোদ রামের যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত এই দুর্ধর্ষ অভিযানটি সফল হওয়ায় খুশির হাওয়া ক্রীড়ামহলে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অণ্ডালের যুবকদের এই সাফল্য আগামী দিনে এলাকার আরও বহু তরুণ-তরুণীকে পর্বতারোহণ ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে। খুব শীঘ্রই সফল অভিযাত্রী দলকে এলাকায় নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।