সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- গত ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ছিল নষ্ট চন্দ্র। শাস্ত্র নির্দেশ অনুযায়ী নষ্ট চন্দ্রের দিন চন্দ্র দর্শন নিষিদ্ধ। গত রাতে যে চন্দ্র দর্শন করেছে সে ব্যাভিচারে লিপ্ত হবে। পুরাণ মতে নষ্ট চন্দ্রের দিন রাতে গণেশ খেলা করতে বেরিয়ে ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গী ইঁদুর ছিল। তখন গণেশদেব হঠাৎ দেখলেন , একটি সাপকে। ইঁদুর সাপটি দেখে ভয়ে লাফিয়ে উঠলে গণেশ মাটিতে পড়ে যান, তখন তাঁর কাছে থাকা সব মোদক মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে, গণেশদেব ব্যথা পেয়ে আবারও উঠে দাঁড়ালেন আর সাপ টিকে কোমর বেঁধে নিলেন। তখন চন্দ্রদেব গণেশকে পড়ে যেতে দেখে জোরে হেসে উঠে বললেন, ‘ হা হা! এত অদ্ভুত শরীর! মোটা পেট, ছোট বাহন—আর পড়ে গেলো। দেখতে কেমন কুৎসিত দেখাচ্ছে!- গণেশদেব বুঝে যান চন্দ্রদেব অহং বশে তাঁকে উপহাস করছেন। গণেশ দেব তখনি রেগে গিয়ে বললেন বললেন “হে চন্দ্র! তোমার মধ্যে অহংকার ভর করেছে। তুমি সাহায্য করার বদলে উপহাস করলে! আজ থেকে আমি তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি, তুমি আর কারও চোখে ধরা পড়বে না, তোমার সৌন্দর্য লোপ পাবে, আর অন্ধকার ছড়িয়ে পড়বে।”
এই কথা শুনে চন্দ্রদেব ভয়ে লুকিয়ে গেলেন পৃথিবীও চাঁদ ছাড়া হয়ে পড়ল। সব দেবতা তখন ভগবান গণেশের কাছে গিয়ে প্রার্থনা করে বললেন— “হে বিনায়ক, চাঁদ না থাকলে প্রকৃতির সকল নিয়ম ভেঙে যাবে আর আলো-অন্ধকারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।” চন্দ্রদেবও ক্ষমা চাইলেন নিজের কৃতকর্মের জন্য, তখন গণেশদেব বললেন “আমি একবার অভিশাপ দিয়েছি, তাই তা পুরোপুরি ফিরিয়ে নিতে পারি না। তবে লাঘব করে দেব। তুমি প্রতিদিন অল্প অল্প করে আকার পরিবর্তন করবে। মাসে একদিন তুমি সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে (অমাবস্যা)। মাসে একদিন তুমি পূর্ণ জ্যোতিষ্মান হবে (পূর্ণিমা)। এভাবেই তোমার আলো পৃথিবীতে থাকবে, কিন্তু অহংকার আর কখনও তোমার মধ্যে আসবে না। তবে নষ্ট চন্দ্রের তিথিতে যে তোমাকে দর্শন করবে, সে অশুভ ফল পাবে, তার জীবনে মিথ্যা অপবাদ আসবে।”
নষ্ট চন্দ্রের প্রতিকার ও আছে,শাস্ত্র অনুযায়ী যদি কেউ ভুলে নষ্ট চন্দ্র দেখে ফেলে, তবে শ্রী গণেশ স্তোত্র পাঠ, শ্রীকৃষ্ণের স্যমন্তক মণি কাহিনী শুনলে(নষ্ট চন্দ্র দর্শন স্বরূপ শ্রীকৃষ্ণ স্যমন্তক মনি চুরির অপবাদ পেয়েছিলেন) বা সত্যনারায়ণ ব্রত নিষ্ঠাভরে পালন করলে অশুভ প্রভাব কেটে যায়।