সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার পর দুই মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ। অবশেষে ঘটনার কিনারা করতে আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপের দাবি জানালেন বারাকরের এক ভুক্তভোগী।
বারাকরের চৌবে ক্যাম্পাস এলাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সি নিলেশ কুমার ঝা জানান,গত ১১ মে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে তাঁর অজান্তে এবং কোনও অনুমতি ছাড়াই বারাকর ইউকো ব্যাংক (UCO Bank) শাখার অ্যাকাউন্ট থেকে দু’টি পৃথক লেনদেনে মোট ৯৭ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। প্রথম দফায় ৫০ হাজার এবং দ্বিতীয় দফায় ৪৭ হাজার টাকা তোলা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরপরই তিনি জাতীয় সাইবার অপরাধ হেল্পলাইন নম্বর '১৯৩০'-এ অভিযোগ নথিভুক্ত করেন এবং ১২ মে তার প্রাপ্তিস্বীকার পত্রও পান। একই দিনে তিনি দুর্গাপুর সাইবার ক্রাইম সেলে গিয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্রানজ্যাকশন আইডি ও স্ক্রিনশট জমা দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ডায়েরি বাবদ সেখানে জিডিই নম্বর ৬৬ নথিভুক্ত করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ, সাইবার সেলে সমস্ত প্রমাণসহ অভিযোগ জানানোর পর প্রায় দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি। তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়েও কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি। নিলেশবাবুর আশঙ্কা, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা ইতিমধ্যে ওই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিতে পারে অথবা ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে দিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুর সাইবার ক্রাইম সেলকে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার পাশাপাশি প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ইউপিআই আইডি ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।