এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

নতুন ন্যূনতম মজুরি না দেওয়ার অভিযোগে শ্রমিক বিক্ষোভ

By Eaibanglai - August 22, 2026
— Advertisement —
Advertisement
নতুন ন্যূনতম মজুরি না দেওয়ার অভিযোগে শ্রমিক বিক্ষোভ

সংবাদদাতা,আসানসোলঃ-  রাজ্য সরকার ঘোষিত নতুন ন্যূনতম মজুরি না দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেন্দুয়া-কল্যাণেশ্বরী শিল্পাঞ্চল। সালানপুরের খ্যাতনামা ইস্পাত উৎপাদনকারী সংস্থা ‘এলোকুইন্ট স্টিল প্ল্যান্ট’-এর মূল গেটের সামনে শনিবার কাজ বন্ধ রেখে দীর্ঘ সময় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কারখানার শ্রমিকরা। শ্রমিকদের অভিযোগ, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হওয়া সত্ত্বেও কারখানা কর্তৃপক্ষ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে অনীহা প্রকাশ করছে।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, সম্প্রতি রাজ্য সরকার, শ্রম বিভাগ এবং কর্মী সংগঠনগুলির মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শিল্পাঞ্চলের কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, শ্রমিকদের ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩৮৬ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ সেই সরকারি নির্দেশিকা ও চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের নির্ধারিত দৈনিক ৩২৩ টাকা হারেই মজুরি দিয়ে যাচ্ছে। বকেয়া এবং বর্ধিত বেতনের দাবিতে বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কোনও সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ।

এদিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে শ্রমিকনেতা অমর নাথ মাহাতো শিল্পাঞ্চলের মালিকপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, "শিল্পাঞ্চলের মালিকদের সংগঠন চায় না যে শ্রমিকরা এই বর্ধিত বেতন পান। তাদের আশঙ্কা, কোনও একটি কারখানা এই নিয়ম চালু করলে অঞ্চলের সমস্ত সংস্থাকেই নতুন বেতন কাঠামো মেনে নিতে হবে—এই ভয় থেকেই মালিকপক্ষ চুক্তিকৃত ন্যায্য বেতন আটকে রেখেছে।" তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যতক্ষণ না শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও বকেয়া দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ তারা গেটের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

মজুরি বিতর্কের পাশাপাশি কারখানার অভ্যন্তরীণ শ্রমিক সুরক্ষা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন এই শ্রমিকনেতা। তাঁর অভিযোগ, এই কারখানা প্রতিনিয়ত শ্রমিকদের শোষণ করে চলেছে। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, "কারখানা কর্তৃপক্ষ দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে বলে, সুরক্ষার অভাবে মারা গেলে ১৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একজন শ্রমিকের জীবনের দাম কি মাত্র ১৪ লক্ষ টাকা? তারা বড় বড় কথা ছাড়া কিছুই বলে না, অথচ কাজের জায়গায় ন্যূনতম সুরক্ষাটুকুও শ্রমিকদের দেবে না।"

আন্দোলন চলাকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের সঙ্গে একবার কথা বলতে আসেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনও রফা বা সমাধান সূত্র মেলেনি। সামগ্রিক এই অচলাবস্থা এবং শ্রমিকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement