এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা দেশ ও বিদেশ

‘উপরি আয়’ কমতেই থানা-পুলিশের জৌলুসে ভাটা? বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি

By Eaibanglai - August 23, 2026
— Advertisement —
Advertisement
‘উপরি আয়’ কমতেই থানা-পুলিশের জৌলুসে ভাটা? বদলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের অন্দরমহল ঘিরে চলে আসা একটি প্রচলিত ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, এই জেলার একাধিক থানায় সরকারি বেতনের বাইরে বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থের উপর নির্ভর করে বহু আনুষঙ্গিক খরচ চালানোর একটি সংস্কৃতি বহু বছর ধরে চলে আসছে। স্থানীয় মহলের একাংশের দাবি, এই ব্যবস্থার শিকড় নাকি সেই ব্রিটিশ আমল থেকে।
থানার দৈনন্দিন সরকারি কাজের বাইরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুলিশের উদ্যোগ দেখা যায়। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যাত্রা, গান, রক্তদান শিবির, শিশুদের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে দুঃস্থদের সাহায্য, বছরের বিভিন্ন সময়ে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে। অভিযোগ, এই ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও কারবারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হতো।

শুধু অনুষ্ঠান নয়, থানার যানবাহন ব্যবস্থাপনাতেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত গাড়ি, তেল এবং বেসরকারি চালক রাখার চল ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সেই চালকদের পারিশ্রমিকও পুলিশের তরফে দেওয়া হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের কথিত ‘উপরি আয়’ কমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সেই অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বেসরকারি চালকদের উপরও। অভিযোগ, কোথাও কোথাও চালকদের কাজ চলে গিয়েছে বা তাদের সংখ্যা কমেছে।

এর পাশাপাশি পুলিশের সামাজিক ভূমিকার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের ছবি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। অতীতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় সাহায্য করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা থানায় আসা অতিথিদের আপ্যায়নের মতো নানা খাতে পুলিশ নিজেদের উদ্যোগে অর্থ ব্যয় করত বলে দাবি করা হয়। এখন সেই ধরনের খরচও অনেক ক্ষেত্রে কমে গেছে বলে অভিযোগ। সেইজন্য এখন অনেকক্ষেত্রে পুলিশের অভিযান, রাতে টহল দেওয়া কমে গেছে, কোনও কেসে তদন্ত করা এখন পুলিস সেরকম গা করছে না। এর পেছনে কারণ অনেক, গাড়ির তেল কোথা থেকে আসবে, ড্রাইভারকে বেতন দেওয়া প্রভৃতি।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সরকারি ব্যবস্থার বাইরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এই আর্থিক নির্ভরতার সংস্কৃতি কি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে?
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, আগে থানাকে ঘিরে এবং অফিসারদের যে ‘ঠাটবাট’ বা অতিরিক্ত কর্মকাণ্ড চোখে পড়ত, বর্তমানে তার অনেকটাই কমে গেছে। তাদের কথায়, অর্থের অনানুষ্ঠানিক উৎস সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের অতিরিক্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও ভাটা পড়েছে।
তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, সরকারি বেতন ও অনুমোদিত সরকারি বরাদ্দের বাইরে থানার খরচ মেটাতে ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষের এবং কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া আদৌ কতটা নিয়মসঙ্গত? পুলিশের কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকাটা চিরন্তন সত্য।

এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে কোনও পুলিশ অফিসারের বক্তব্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ঠিক তেমনি সত্য, পূর্বে অন্ডাল থেকে আসানসোল পর্যন্ত খনি অঞ্চলে পোস্টিং পাওয়াটা ছিল পুলিস অফিসারদের কাছে স্বপ্ন। ওইসব শাঁসালো থানাতে পোস্টিং মানেই কেল্লাফতে।
সব মিলিয়ে, কথিত ‘উপরি আয়’-নির্ভর একটি পুরনো সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু পুলিশের অভ্যন্তরীণ অর্থব্যবস্থাকেই নয়, থানাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকেও কতটা বদলে দিচ্ছে, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement