দক্ষিণ বাংলা

এরিক লাকড়া হত্যাকাণ্ডে আত্মসমর্পণ এক অভিযুক্তের

By Eaibanglai - May 08, 2026
— Advertisement —
Advertisement
এরিক লাকড়া হত্যাকাণ্ডে আত্মসমর্পণ এক অভিযুক্তের

সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- চিত্তরঞ্জন রেল শহরের বাসিন্দা, জাতীয় স্তরের হকি খেলোয়াড় তথা রেলকর্মী এরিক লাকড়া হত্যাকাণ্ডে নয়া মোড়। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তের মধ্যে অন্যতম আয়ুষ ভগৎ-এর আদালতে আত্মসমর্পণ। আত্মসমর্পণের খবর পেয়েই আসানসোল আদালতে পৌঁছে যায় চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ ও অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।

প্রসঙ্গত,যানজট নিয়ে বচসার জেরে প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় ও রেলকর্মী এরিক লাকড়াকে লোহার রড দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

গত গত ৮ মার্চ চিত্তরঞ্জন রেল শহরের সুন্দরপাহাড়ি নর্থ এলাকার বাসিন্দা, এরিক লাকড়া মিহিজাম থেকে গাড়িতে তেল ভরে বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় চিত্তরঞ্জন রেলস্টেশন চৌমাথায় যানজট নিয়ে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি হয় । দুপক্ষের অশান্তি শুধু বচসাতেই থেমে থাকেনি। এরপর ওই যুবকরা এরিকের পিছু নেয় ও ধাওয়া করতে থাকে। অবশেষে চিত্তরঞ্জনের ওভাল গ্রাউন্ডের কাছাকাছি অশোক এভিনিউয়ে অফিসার্স ক্লাবহাউসের পাশে এরিকের গাড়ি দাঁড করিয়ে তাকে গাড়ি থেকে বের করে মারধর করে ওই যুবকেরা। অভিযোগ লোহার রডের আঘাতে এরিক জ্ঞান হারালে অবস্থা বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত যুবকেরাই তাকে চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তিরত করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ২৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

এদিকে তার মৃত্যুর পর থেকে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় চিত্তরঞ্জনবাসীর মধ্যে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিক্ষোভ দেখায়। এরিকের পরিবার ও স্থানীয়রা দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে সড়ক অবরোধ এবং থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়।

ঘটনার তদন্তে নেমে চিত্তরঞ্জন থানার পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা প্রথমে ভিনরাজ্যে পালিয়ে যায়। বিহার ও রাজস্থানে তাদের অবস্থানের খবর পায় পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে চিত্তরঞ্জন থানার একটি দল রাজস্থানের কোটাতেও পৌঁছয়। সেখানে আয়ুষ তার মামাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। যদিও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর দেশ ছেড়ে নেপালে পালিয়ে যায় আয়ুষ। সেখানে নতুন মোবাইল ফোন ও নেপালের সিমকার্ড ব্যবহার করে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল সে। দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে থাকার পর অবশেষে বুধবার, ৭ মে আসানসোল আদালতে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে সে।

আয়ুষ ভগৎ ছাড়াও খুনের ঘটনায় শুভম পান্ডে এবং রাজ খানের নাম রয়েছে এফআইআর-এ। তারা আপাতত পলাতক। পুলিশের দাবি, আয়ুষকে হাতে পাওয়ার পর এবার বাকি দুই অভিযুক্তকেও দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement