এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- রাজ্যে ট্যাক্স, পারমিট এবং লাইসেন্স খাতে পড়ে থাকা প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার বকেয়া আদায়ে বিশেষ ‘ওয়েভার স্কিম’ বা ছাড়ের প্রকল্প চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার বেসরকারি বাস ও মিনিবাস মালিকদের সংগঠনগুলির সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর তিনি জানান, অর্থ দফতরের অনুমোদন মিললে বকেয়া কর ও জরিমানার ওপর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে গাড়ি মালিকদের বাকি ৬০ শতাংশ টাকা মেটাতে হবে। সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি খেলাপি গাড়ি মালিকদের বকেয়া মেটানোর সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। পুলিশের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে বকেয়া করের পাশাপাশি জরিমানার বিষয়টি নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়।
পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যাক্স, পারমিট এবং লাইসেন্স-সহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি গাড়ির কর বকেয়া রয়েছে। এই বকেয়া করের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি।দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ওই বকেয়া আদায়ে সম্প্রতি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে দফতর। কিন্তু তাতেও আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে বকেয়া বাবদ ১০০ কোটির কিছু বেশি টাকা জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাসমালিকদের একাংশ বকেয়া করের উপর ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, ‘‘ট্যাক্স, পারমিট, লাইসেন্স-সহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। বাসমালিকেরা ছাড়ের আবেদন জানিয়েছেন। আমরাও অর্থ দফতরকে ৪০ শতাংশ রিবেট দেওয়ার কথা বলেছি। অনুমোদন মিললে বকেয়া করের ৬০ শতাংশ গাড়ির মালিকদের দিতে হবে।’’
বকেয়া করের পাশাপাশি গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। বৈঠকে বাসমালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি জানান, বহু বেসরকারি বাস অনুমোদিত রুটের বাইরে বেআইনিভাবে চলাচল করছে। এই রুট বদল রুখতে চালকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও মোটর ভেহিক্যালস ইন্সপেক্টরদের (MVI) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, রুটে টোটোর দৌরাত্ম্য নিয়ে বাসমালিকদের ক্ষোভের জবাবে মন্ত্রী দাবি করেন, পুলিশের কড়া পদক্ষেপের কারণে এই সমস্যা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে, তবে পুরোপুরি দূর করতে প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে।
বৈঠকে পুজোর সময়ে বেসরকারি বাস ধরপাকড় বন্ধ করা-সহ বাস শিল্পের একাধিক সংকটের কথা পরিবহণমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন মালিকেরা। আলোচনা শেষে সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় এবং সিটি সাবার্বান বাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা জানান, বৈঠক অত্যন্ত সদর্থক হয়েছে। প্রস্তাবিত ওয়েভার স্কিম চালু হলে গাড়ি মালিকেরা বিপুলভাবে উপকৃত হবেন এবং পরিবহণমন্ত্রী তাঁদের বাকি সমস্যাগুলিও দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছ।