বিশেষ সংবাদদাতা,কলকাতাঃ- প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেত্রী পল্লবী চ্যাটার্জী, যিনি কিংবদন্তি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর বোন, গত ২৭ বছর ধরে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে আসছেন তাঁদের আদি পৈতৃক লক্ষ্মীপুজো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজো আজ শহরের অন্যতম আলোচিত উৎসব হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের এই বহুলচর্চিত পুজোর একটি প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরলেন অভিনেতা, সমাজকর্মী ও মেথড অ্যাক্টিংয়ের প্রশিক্ষক ববি চক্রবর্তী। গত দুই দশক ধরে এই পুজোর আমন্ত্রিত অতিথিদের বিশিষ্ট তালিকায় নিয়মিতভাবে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে। এই পুজো সম্পর্কে ববি যা জানালেন, তা তাঁর নিজের ভাষাতেই তুলে ধরা হলো— “পল্লবীদিকে, অর্থাৎ আমার অত্যন্ত প্রিয় মাকুদিকে, আমি ঠিক ২৪ বছর ধরে চিনি। হিন্দি দৈনিক ধারাবাহিক ‘সাহেব বিবি ঔর গুলাম’-এর অডিশন দিতে গিয়েই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ২০০৩ সালে। পল্লবীদি ও বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী) তখন ‘গোল্ডেন মোমেন্টস’-এর ব্যানারে ‘সাহারা মনোরঞ্জন’ চ্যানেলের জন্য ধারাবাহিকটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁদের সঙ্গে সহ-অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছি। কিন্তু পেশাগত সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে মাকুদির সঙ্গে আমার গড়ে উঠেছে হৃদয়ের এক গভীর সম্পর্ক। এই ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা সত্যিই আমার শুভাকাঙ্ক্ষী, তাঁদের তালিকায় মাকুদি নিঃসন্দেহে একেবারে প্রথম সারিতে থাকবেন। প্রযোজক হিসেবে, সহ-অভিনেত্রী হিসেবে এবং সর্বোপরি আমার দিদি হিসেবে তাঁর আন্তরিকতা, উষ্ণতা ও স্নেহ আমাকে বারবার মুগ্ধ করেছে। গত ২২ বছর ধরে মাকুদির লক্ষ্মীপুজোয় আমি কখনও অনুপস্থিত থাকিনি। ব্যতিক্রম শুধু সেই দু-একটি বছর, যখন আমি আমেরিকায় ছিলাম। মাকুদি সম্পূর্ণ একার হাতে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন, ঠিক যেভাবে তাঁর মা, প্রয়াত রত্না চ্যাটার্জী, অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পুজোটি পরিচালনা করতেন। মাকুদির কথায়, তাঁর মা-ই ছিলেন তাঁর জীবনের সবকিছু। সেই কারণেই দেখবেন, মা লক্ষ্মীর সিংহাসনের পাশেই রয়েছে শ্রদ্ধেয় রত্না আন্টির ছবি। বছরের পর বছর ধরে মাকুদির এই লক্ষ্মীপুজো কখন যে আমার নিজের পুজো হয়ে উঠেছে, তা বুঝতেই পারিনি। আমার বার্ষিক ক্যালেন্ডারে এই দিনটি বরাবরই বিশেষভাবে চিহ্নিত থাকে। বিনোদন জগতের সহকর্মীদের সঙ্গে এখানে একরকম ছোটখাটো পুনর্মিলনও ঘটে যায়। জমে ওঠে মনখোলা আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা আর অফুরন্ত আনন্দ। এবারের পুজোতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শঙ্করদা, ঋষি, সুদীপদা, প্রেমজিৎ, দেবিকাদি, সায়ন্তনী, অনিন্দ্যদা, অশোকদা, ঋজু, শর্মিলাদিসহ আরও অনেকের সঙ্গে দারুণ সময় কেটেছে। আর এই বছরেও, মাকুদি নিজে প্রত্যেক অতিথিকে অত্যন্ত যত্ন করে পরিবেশন করেন সুস্বাদু ভোগ।
মা লক্ষ্মীর কাছে আমার একান্ত প্রার্থনা, তিনি যেন মাকুদিকে আজীবন সুস্বাস্থ্য, সুখ, সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যে ভরিয়ে রাখেন। মাকুদি সত্যিই বিশেষ একজন মানুষ… তিনি আমার হৃদয়ের অত্যন্ত কাছের।”