নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- দিনের আলোয় জনবহুল এলাকায় ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে আলমারি খুলে বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। বুধবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুর থানার বেনাচিতির নিবেদিতা প্লেস এলাকায়। চুরির কায়দা দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কোনো 'মাস্টার কি' বা নকল চাবি ব্যবহার করে আলমারি খোলা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা পেশায় ব্যবসায়ী মোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোতলা বাড়ি রয়েছে। বুধবার দুপুরে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। গৃহবধূ দেবশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাড়ির পাশেই একটি আশ্রমে গণেশ পুজো উপলক্ষে উৎসব চলায় তিনি দুপুরবেলা মূল দরজায় তালা দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর কলেজপড়ুয়া ছেলেও বাড়িতে ছিলেন না এবং স্বামী মোহনবাবু এক পরিচিতের মৃত্যু হওয়ায় শ্মশানে গিয়েছিলেন।
আশ্রম থেকে ফিরে দেবশ্রীদেবী মূল ফটকের তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন। কিন্তু অবাক হয়ে দেখেন, বাড়ির মূল দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় তিনি বাড়ির পিছনে গিয়ে দেখেন পেছনের দরজাটি খোলা রয়েছে। এরপর দোতলায় উঠে তিনি দেখেন, আলমারি ও বক্স খাট খোলা এবং সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আলমারিটি অক্ষত থাকায় তাঁর দাবি, কোনো ভাঙচুর না করে নকল চাবি দিয়েই সেটি খোলা হয়েছে। আলমারি থেকে প্রায় ১০ ভরি সোনার গয়না এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা গায়েব করে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়ির ভেতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার পর কার্যত ভেঙে পড়েছেন গৃহকর্তা মোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “এইভাবে দিনে দুপুরে জনবহুল এলাকায় চুরির ঘটনায় আমরা হতবাক। আলমারিতে আমার স্ত্রী, ছেলে ও শাশুড়ির গয়না রাখা ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ ভরি সোনার অলঙ্কার চুরি গেছে। এই চুরির ফলে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে যাতে আমাদের জিনিসপত্র উদ্ধার করে দেয়, সেই দাবি জানাচ্ছি।”
প্রকাশ্য দিবালোকে এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় নিবেদিতা প্লেস এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।