এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা দেশ ও বিদেশ

অবমাননাকর সংবাদ! 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' এর বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা!! সংবাদ সম্প্রসারণ কি বন্ধ ?

By Eaibanglai - September 23, 2026
— Advertisement —
Advertisement
অবমাননাকর সংবাদ! 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' এর বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা!! সংবাদ সম্প্রসারণ কি বন্ধ ?

মনোজ সিংহ,  দুর্গাপুর:-  হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবমাননাকর সংবাদ সম্প্রচার করার দায়ে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের হল দুর্গাপুরের একটি ডিজিটাল সংবাদপত্রের সম্পাদকের বিরুদ্ধে। 'কৌশিক বড়ুয়া' নামে ওই ব্যক্তি 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' নামে একটি সংবাদপত্র সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কৌশিক বাবুর বিরুদ্ধে দুর্গাপুরের মলানদিঘি এলাকার সনকা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ একটি অবমাননা কর সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ এনেছেন। মাস দেড়েক আগে মলানদিঘীর সনকা হাসপাতলে রক্ত সংগ্রহ সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য এসেছিলেন 'প্রকাশ প্রসাদ' নামে জনৈক ব্যক্তি। তাঁর কোন নিকট আত্মীয় ওই হাসপাতালে সে সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন। 'প্রকাশ প্রসাদ' নামে ওই ব্যক্তি নাকি নিজেকে 'ভারতীয় মজদুর সংঘ' বা বিএমএস এর জেলা সহ-সভাপতি বলে দাবী করেছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রকাশ বাবু তাঁর বাইকটি হাসপাতালের সীমানার মধ্যে বিনা অনুমতিতে নো পার্কিং জোনে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। নো পার্কিংয়ে বাইক রাখার অপরাধে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা তাঁর বাইকের চাকার হাওয়া খুলে দেন বলে অভিযোগ। বাইকের চাকার হাওয়া খোলা দেখে মুহূর্তের মধ্যেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন 'প্রকাশ প্রসাদ' নামে ওই ব্যক্তি। শুরু হয় নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে তাঁর তুমুল বাকবিতন্ডা। তিনি নাকি তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালে ডেকে আনেন বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মীদের। ঘটনাকে ঘিরে একসময় তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নিজের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ প্রসাদ নামে ওই ব্যক্তি নাকি হাসপাতালে রীতিমতো হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দেন। বেশ কিছু বহিরাগত লোকজনদের নিয়ে এসে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি  ওই 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' এর সংবাদ প্রতিনিধিও সংবাদ সংগ্রহের জন্য হাসপাতালে পৌঁছে যান। অন্যান্য সংবাদ সংস্থাগুলি সেদিনকার ঘটনা টুকুই শুধুমাত্র খবরের আকারে পরিবেশন করলেও কৌশিক বড়ুয়ার 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' নাকি সরাসরি হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট পার্থ পোবিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ । তিনি তাঁর ওই ডিজিটাল পেপারে নাকি উল্লেখ করেছেন,'এই কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাই যে বিগত দিনে এই এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায় এই কলেজে অভিষেক ব্যানার্জির ৫০ শতাংশ প্লাস শেয়ার রয়েছে। এই কলেজের মালিক হয়তো ভুলে গেছেন যে গভর্নমেন্টের পালাবদল হয়েছে। এই ভাড়াটিয়া গুন্ডা দিয়ে বিজেপির কোন কর্মীকে বা সেনাকে আটকে দেওয়া যাবে না। অভিষেক ব্যানার্জির ডিম থেরাপি হয়েছে। এই কলেজের মালিকের ডিম থেরাপি হয়নি। এরকম ঘটনা যদি ঘটতে থাকে, কলেজের মালিকও রেহাই পাবে না ডিম থেরাপির হাত থেকে।'

প্রশ্ন উঠেছে কান পেতে কিছু শোনা গেলেই তা কি কখনও সংবাদের আকারে পরিবেশন করা যায়? ওই কান পেতে শোনা তথ্যের কী ভিত্তি আছে? সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া কোন গুজব কি প্রমাণ ছাড়াই লিখে দেওয়া যায়? এই কলেজের ৫০ শতাংশের বেশী শেয়ার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, এই তথ্যই বা তিনি পেলেন কোথায়? এ বিষয়ে কী প্রমাণ আছে তাঁর কাছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডিম থেরাপির মুখে পড়তে  হয়েছিল। কিন্তু তার সাথে ওই হাসপাতালের ঘটনার কী সম্পর্ক রয়েছে? পার্থ পোবিকে ডিম থেরাপির মুখে পড়তে হয়নি। এই ধরণের ঘটনা ঘটতে থাকলে তাঁকেও ডিম থেরাপির মুখে পড়তে হবে, এই বক্তব্যের মধ্যেও কি প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর উঠে আসছে না? প্রশ্ন উঠছে তবে কি কৌশিক বাবুই পার্থ পোবির উপর ডিম থেরাপির জন্য উস্কানি দিচ্ছেন? সেই ঘটনার সঙ্গে স্বয়ং পার্থ পোবিরই বা কতটুকু যোগাযোগ তা নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ থেকেই যায়।'পার্থ পোবি ভুলে যাচ্ছেন যে এখন আর তৃণমূলের জমানা নেই। এখন রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে। এই ধরণের বাক্য বন্ধের মধ্যেও রয়ে গেছে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।

মানহানি মামলার ওই পিটিশনে 'সনকা মেডিকেল কলেজ' ও হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট তপন পোবি, ভাইস প্রেসিডেন্ট পার্থ পোবি এবং সেক্রেটারি মহুয়া পোবি তিনজনই সমাজে অত্যন্ত সম্মানীয়, প্রতিষ্ঠিত এবং মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তি বলে বর্ণনা করা হয়েছে। 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' ই-পেপারে এই ধরণের অবমাননাকর সংবাদ পরিবেশিত হওয়ায় সামগ্রিকভাবে পার্থ পোবি সহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এবং ওই মেডিকেল কলেজের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁদের সম্মানহানি করার অপরাধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে ওই 'দ্য ই-পেপার ডিজিটাল' ই-পেপারের সম্পাদক কৌশিক বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই অর্থ যদি সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে না দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে আগামী দিনে ওই সম্পাদকের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলেও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত কৌশিক বড়ুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর দিয়ে বলেন 'এইরকম কোন ঘটনার কথা তার জানা নেই'।  

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement