এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- রাজ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সামগ্রিক আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৯ হাজার ছুঁইছুঁই, এবং প্রতিদিন গড়ে দেড়শোরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। জেলাভিত্তিক সংক্রমণের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এরপরই তালিকায় রয়েছে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হুগলি। এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্যভবন।
স্বাস্থ্যভবনের নতুন গাইডলাইনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু জ্বরের প্রথম ৩ থেকে ৫ দিন রোগীকে অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ, ঘুমের ধরণ এবং খিঁচুনি বা অন্য কোনো শারীরিক পরিবর্তনের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে। এর পাশাপাশি, রোগীর পরিবারের সদস্যদেরও ডেঙ্গুর ‘বিপদসংকেত’ বা ওয়ার্নিং সাইন সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেটে তীব্র ব্যথা, অনবরত বমি, চরম দুর্বলতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা শরীরের যেকোনো অংশ থেকে রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. কাজল কৃষ্ণ বণিকের মতে, ডেঙ্গুর আসল ঝুঁকি অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার পর শুরু হয়, তাই জ্বর কমলেও রোগীকে নজরে রাখা জরুরি।
সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যভবন স্পষ্ট জানিয়েছে, জ্বরের প্রথম ৫ দিনের মধ্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন এলাইজা পরীক্ষা করতে হবে। ৫ দিন পার হয়ে গেলে করতে হবে আইজিএম পরীক্ষা। শুধুমাত্র দ্রুত ফল পাওয়া র্যাপিড কিট টেস্টের ওপর নির্ভর করতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া, জ্বর ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস বা স্ক্রাব টাইফাসের মতো অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা প্লেটলেট বা অণুচক্রিকার সংখ্যা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী, প্লেটলেটের কাউন্ট ২০ হাজারের নিচে না নামলে সাধারণত প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। স্বাস্থ্য দফতরের পাশাপাশি চিকিৎসকদের যৌথ পরামর্শ— উৎসবের মরসুমে ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাড়ির চারপাশে জল জমতে না দেওয়া, দিনেও ফুলহাতা পোশাক পরা এবং শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন প্রধান প্রতিরোধমূলক উপায়।