নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- উৎসবের মরশুমে রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টল ভাঙচুর ও বাধার অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি । এবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে। দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস এলাকায় সিপিএমের একটি বইয়ের স্টলে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহেই চণ্ডীদাস বাজার সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ।
সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, রবিবার দুপুরে যখন চারপাশ কিছুটা ফাঁকা ছিল, ঠিক সেই সুযোগে একদল দুষ্কৃতী চণ্ডীদাসে তাঁদের পুজো উপলক্ষে করা বইয়ের স্টলে অতর্কিত হামলা চালায়। স্টলে থাকা চেয়ার, টেবিল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, বাক্সে যত্ন করে রাখা প্রচুর মার্ক্সবাদী ও বৈচিত্র্যময় সাহিত্যের বই টেনেহিঁচড়ে রাস্তার পাশে থাকা ড্রেনের নোংরা জলে ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে স্টলের আসবাবপত্রের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বইপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভভিযোগ।
এই খবর সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্য প্রকাশ তরু চক্রবর্তী বলেন, "সারা রাজ্যজুড়ে একটা সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবে দুষ্কৃতীরা যেভাবে বামেদের বইয়ের স্টল ভেঙে দিচ্ছে, চণ্ডীদাসের ঘটনাও সেই নোংরা প্রবণতারই অঙ্গ। কিন্তু এই সমস্ত তাণ্ডব চালিয়ে আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না, কোনো লাভও হবে না। আমরা বুক স্টলের সামগ্রী গুছিয়ে আবারও জোরকদমে এর উদ্বোধন করব।"
এই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও শুরু হয়ে গিয়েছে কড়া রাজনৈতিক তরজা। সিপিএম যেখানে পরোক্ষভাবে দক্ষিণপন্থী আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তুলছে, সেখানে এই হামলার সাথে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিজেপি।
পাল্টা তোপ দেগে জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডল বলেন, "হিন্দুদের এই পবিত্র মহোৎসবের মাঝে ওরা মণ্ডপের বাইরে স্টল দিয়ে সম্পূর্ণ হিন্দু বিরোধী কথাবার্তা প্রচার করছে। ওই বুক স্টল থেকে মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগ ও সনাতন ধর্মকে আঘাত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই হয়তো কোনো বহিঃপ্রকাশ হয়েছে সেখানে। এর সাথে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো রকম যোগসূত্র নেই।"
অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।