সন্তোষ কুমার মণ্ডল, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরের লিংক পার্ক এলাকায় একটি বহুতল আবাসনের বন্ধ ফ্ল্যাটে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । আবাসনের একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার গয়না মিলিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার সামগ্রী লুট করে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চুরি যাওয়া ফ্ল্যাটটির মালিক রবীন্দ্র কুমার কর্মসূত্রে সিঙ্গাপুরে সপরিবারে বসবাস করেন । তাঁর অনুপস্থিতিতে দুর্গাপুরের ওই বন্ধ ফ্ল্যাটটি দেখভাল করতেন তাঁর শ্যালক সত্যেন্দ্র মিস্ত্রি ও তাঁর স্ত্রী। তাঁরা মাঝে মাঝেই ফ্ল্যাটটিতে এসে তদারকি করে যেতেন। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ধুলোবালি জমে অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই ঘর পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে রবিবার সত্যেন্দ্রবাবু তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওই আবাসনে যান।
ফ্ল্যাটে পৌঁছেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁদের। তাঁরা দেখেন, ফ্ল্যাটের সদর দরজার মূল তালাটি ভাঙা অবস্থায় ঝুলছে। বিপদ বুঝে তড়িঘড়ি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করতেই তাঁদের আশঙ্কা সত্যি প্রমাণিত হয়। সত্যেন্দ্রবাবু দেখেন, ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। ঘরের আলমারি এবং লকারটি ভাঙা অবস্থায় খোলা পড়ে আছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আলমারি ও লকারে রক্ষিত মূল্যবান সোনার গহনা এবং নগদ টাকা হাতিয়ে চম্পট দিয়েছে চোরের দল। সব মিলিয়ে খোয়া যাওয়া সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান, ফ্ল্যাটটি দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়েই এই 'অপারেশন' চালিয়েছে চোরেরা । ঘটনাটি কতদিন আগে ঘটেছে এবং এর পেছনে ঠিক কতজন জড়িত ছিল, তা নির্দিষ্ট করতে আবাসনের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে এবং তারা চুরির পর কোন পথে পালিয়ে গেল তা জানতে আবাসন ও তার আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
আবাসন চত্বরে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দুষ্কৃতীরা বহুতলের ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করল, সেই নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।