এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা

এটিএম কার্ড আটকে অভিনব প্রতারণা দুর্গাপুরে,উধাও ৬৪ হাজার টাকা

By Eaibanglai - August 07, 2026
— Advertisement —
Advertisement
এটিএম কার্ড আটকে অভিনব প্রতারণা দুর্গাপুরে,উধাও ৬৪ হাজার টাকা

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- এটিএম বুথের ভেতরে কার্ড আটকে যাওয়া এবং তা উদ্ধারের নামে পাতা সাইবার ফাঁদে পা দিয়ে বড়সড় আর্থিক প্রতারণার শিকার হলেন দুর্গাপুরের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট  ফার্মের এক কর্মী অভিজিৎ সরকার। বুথের দেওয়ালে লাগানো ‘এটিএম মেনটেন্যান্স ম্যানেজার’-এর ভুয়ো নম্বরে ফোন করতেই তিন দফায় অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় মোট ৬৪ হাজার টাকা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গীর নাচন রোড একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএমে।

অভিজিৎবাবু জানান, বুধবার রাতে মেয়ের এটিএম কার্ড নিয়ে টাকা তুলতে তিনি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারে গিয়েছিলেন। এটিএম মেশিনে কার্ড ঢুকিয়ে পিন নম্বর দেওয়ার পরেই হঠাৎ কার্ডটি আটকে যায়। সেই সময় মেশিনের স্ক্রিনে বারবার ‘টেম্পোরারি আউট অফ অর্ডার’ এবং ‘ইন্সার্ট প্রপারলি’ বার্তা দেখাচ্ছিল। কার্ডটি কোনোভাবেই বের করতে না পেরে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন তিনি। 

অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই এটিএমের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক সাহায্যের নাম করে ভেতরে ঢোকে। বুথের দেওয়ালে সাঁটানো ‘এটিএম মেনটেন্যান্স ম্যানেজার’ লেখা একটি মোবাইল নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেয় সে। বিভ্রান্ত অভিজিৎ বাবু ওই নম্বরে ফোন করলে, ওপার থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে মেশিনের ‘এন্টার’ এবং ‘ক্যানসেল’  বোতাম দু’বার করে চাপার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাতেও কার্ড বের হয়নি।

এরপর ফোন কানে নিয়েই কথা বলতে বলতে এটিএম বুথের কিছুটা বাইরে পা বাড়ান অভিজিৎ বাবু। আর ঠিক তখনই তাঁর মোবাইলে পরপর টাকা কেটে নেওয়ার মেসেজ আসতে শুরু করে। আশঙ্কাজনক বার্তা দেখেই দ্রুত বুথের ভেতরে ছুটে আসেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। তিনি দেখেন সাহায্য করতে আসা ওই যুবক চম্পট দিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেওয়ালে সাঁটানো তথাকথিত মেনটেন্যান্স ম্যানেজারের নম্বর লেখা কার্ডটিও গায়েব।

অভিজিৎবাবু জানান, মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিন দফায় তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ৬৪ হাজার টাকা ডেবিট হয়ে যায়। এর মধ্যে ১০ হাজার ও ৫ হাজার টাকা এটিএম থেকে ‘ক্যাশ উইথড্রয়াল’ বা নগদ তোলা হয়েছে এবং বাকি ৪৯ হাজার টাকা বিহারের একটি বস্ত্র বিপণিতে কেনাকাটার (পিওএস লেনদেন) মাধ্যমে ডেবিট হয়েছে বলে মেসেজে জানানো হয়।

ঘটনার পরই তড়িঘড়ি  ফরিদপুর (লাউদোহা) ফাঁড়িতে এবং পুলিশের পরামর্শ মেনে কেন্দ্রীয় সরকারের অনলাইন সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ নথিভুক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাঙ্কেও অভিযোগ জানান। অভিজিৎবাবুর অভিযোগ এটিএম কার্ডটি মেশিনে ওইভাবে আটকে থাকলেও ব্যাঙ্কের তরফে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। 

অন্যদিকে ওই এটিএম বুথে নিরাপত্তারক্ষী না থাকায়, এটিএম বুথের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিরাপত্তা রক্ষী থাকলে এই ধরণের ঘটনা ঘটতো না বলেই দাবি অভিজিৎবাবুর। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

 

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement