এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে 'ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কিম ফর প্রোভাইডিং গভর্নমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট (গ্রুপ ডি পোস্ট) টু ওয়ান এলিজিবল ফ্যামিলি মেম্বার অফ দ্য ভিক্টিমস কিলড ইন পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স, ২০২৬'-এর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশে বিজ্ঞপ্তিতে সই করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকেই প্রকল্প কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। সেই পরিবারগুলির আর্থিক দুর্দশা লাঘব ও সম্মানজনক পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে ঘটা হিংসার ঘটনায় নিহতদের ক্ষেত্রে প্রকল্প প্রযোজ্য হবে। বিভিন্ন সরকারি দফতর, ডিরেক্টরেট ও কালেক্টরেটে গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ হবে। বিদ্যমান পদে হাত না দিয়ে প্রয়োজনমতো অতিরিক্ত পদ তৈরি করা হবে। সরকার একে নিয়োগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার 'এককালীন ব্যতিক্রম' বলে উল্লেখ করেছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন
নিহতের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল স্ত্রী বা স্বামী, ছেলে, মেয়ে ও তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান (মৃত্যুর আগে আইনত দত্তক নেওয়া সন্তানও) আবেদনের যোগ্য। নিহত অবিবাহিত হলে ভাই বা বোনও আবেদন করতে পারবেন, তবে শর্ত হল, বাবা-মা ও সব ভাইবোন নিহতের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলেন। আবেদনের সময় এবং বিবেচনার সময়, দু’ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর আশু আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন থাকতে হবে।
অন্যান্য শর্ত:
- আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক ও রাজ্যের বাসিন্দা হতে হবে।
- ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ। পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিথিলের সুপারিশ করতে পারবে জেলা কমিটি।
- ২০২৬-এর ১ জানুয়ারি অনুযায়ী বয়স কমপক্ষে ১৮ হতে হবে। আবেদনের দিন গ্রুপ ডি পদের নির্ধারিত সর্বোচ্চ বয়সসীমা পেরোলে চলবে না। এ ক্ষেত্রেও শিথিলের সুপারিশ করা যাবে।
- পরিবারের মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি হলে, পরিবারের কেউ নিয়মিত সরকারি চাকরিতে থাকলে বা আয়কর দিলে আবেদন বিবেচিত হবে না।
- পরিবারপিছু একজনই সুযোগ পাবেন। একই ঘটনায় পরিবারের কেউ আগে সরকারি চাকরি বা অনুকম্পাজনিত নিয়োগ পেয়ে থাকলে এই প্রকল্পে আর সুবিধা মিলবে না।
আবেদন ও যাচাইয়ের পদ্ধতি
নির্ধারিত 'ফর্ম এ'-তে ঘটনাস্থল যে জেলায়, সেখানকার জেলাশাসকের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে মৃত্যুর শংসাপত্র, সম্পর্কের নথি, এফআইআর, চার্জশিট, আদালতে গঠিত অভিযোগের (চার্জ ফ্রেম) প্রতিলিপি এবং 'ফর্ম ডি'-তে হলফনামা। ঘটনা রাজনৈতিক হিংসায় মৃত্যু কি না, তা এফআইআর, চার্জশিট ও আদালতে অভিযোগ গঠনের ভিত্তিতে প্রমাণিত হতে হবে।
প্রতি জেলায় গঠিত হবে জেলা স্তরের স্ক্রিনিং কমিটি। জেলাশাসক হবেন তার চেয়ারপার্সন। সদস্য থাকবেন পুলিশ সুপার (কলকাতা পুলিশের এলাকায় ডেপুটি কমিশনার) এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের মনোনীত প্রসিকিউশন বিভাগের এক আধিকারিক। আবেদন পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র দফতরে পাঠাতে হবে কমিটিকে।
কমিটির সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট আবেদনকারী ৩০ দিনের মধ্যে 'ফর্ম বি'-তে আপিল করতে পারবেন। উপযুক্ত কারণ থাকলে দেরিতে করা আপিলও গ্রহণ করতে পারবে রাজ্য স্তরের কমিটি। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বা স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বাধীন সেই কমিটিতে থাকবেন আইন ও অর্থ দফতরের প্রতিনিধি, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার। আপিল দায়েরের ছ’মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা হবে।
নিয়োগের শর্ত ও সংস্থান
নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে পুলিশি যাচাই ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক। যথাসম্ভব বাসস্থানের কাছাকাছি কর্মস্থল দেওয়ার চেষ্টা হবে বলে জানানো হয়েছে। চাকরি পাওয়া ব্যক্তিকে প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে 'ফর্ম সি'-তে মুচলেকা দিতে হবে যে, নিহতের পরিবারের অন্য নির্ভরশীলদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তিনি নেবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আবেদনের যোগ্য হলেই চাকরির অধিকার জন্মায় না। কমিটির সুপারিশ, শূন্যপদের সংস্থান, পুলিশি যাচাই ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার উপর তা নির্ভরশীল। কোনও কারণ না দেখিয়েই যে কোনও আবেদন খারিজ করা এবং প্রকল্প বদল, স্থগিত বা প্রত্যাহারের অধিকারও রাজ্য সরকার নিজের হাতে রেখেছে। আবেদনের শেষ তারিখ পরে সরকার ঘোষণা করবে, সেই সময়ের পরে জমা পড়া আবেদন বিবেচিত হবে না।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রকল্পে অর্থ, শ্রম, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও আইন দফতরের সম্মতি রয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর মন্ত্রিসভার অনুমোদনও মিলেছে।