সন্তোষ কুমার মণ্ডল,দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর স্টিল পিপলস কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডে এক বিরাট আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, ব্যাংকে প্রায় ৪০ কোটি ৬০ লক্ষ ৫১ হাজার ৫৬৫ টাকার বিশাল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটেছে। শনিবার দুপুরে দুর্গাপুরের বেনাচিতি এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের মূল শাখায় পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সেখানে ব্যাংক আধিকারিকদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক ও পর্যালোচনার পর এই বিপুল দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে আধিকারিকদের সাথে আলোচনার সময় সমবায় মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া স্পষ্ট জানান, ব্যাংকটিতে নির্দিষ্ট তথ্য অনুযায়ী মোট ৪০,৬০,৫১,৫৬৫ টাকার দুর্নীতি করা হয়েছে। লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মের তোয়াক্কা না করে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা পাস করা হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি সরাসরি ব্যাংকের লোন দপ্তরের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন তোলেন—"কারা এই লোন পাস করেছে?" এবং এই বিষয়ে তাঁদের কড়া জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মী যদি ইতিমধ্যেই চাকরি থেকে অবসর নিয়ে থাকেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দোষীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, যেসব কর্মী বা আধিকারিক একই দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে অন্য দপ্তরে বদলি করতে হবে। ব্যাংকের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সমবায় দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুর্গাপুরের ব্যাংকিং ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।