সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- আগামীকাল ১৯ সেপ্টেম্বর রাধারানীর জন্মদিন অর্থাৎ রাধাষ্টমী ব্রত। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এইদিন নির্জলা উপবাস রাখতে হবে। তারপর সারাদিন নিরামিষভোজন করতে পারবেন। বৈষ্ণব সমাজে এই তিথি মহাসমারোহে পালিত হয়। এইদিন মিথ্যে কথা বলা বা কারোর প্রতি হিংস্র আচরণ করবেন না। সারাদিন ভগবানের চরণে মনে রাখবেন আর ভগবানের কথা শ্রবণ করার চেষ্টা করবেন।
রাধাষ্টমী ব্রত পালন করলে কী হয়?
একজন ব্যক্তি যদি একবারের জন্যেও রাধাষ্টমী ব্রত পালন করেন তাহলে তার কোটি জন্মার্জিত ব্রহ্মহত্যাদি মহাপাপ সকল নষ্ট হয়ে যায়।
শত সহস্র একাদশী ব্রত পালন করলে যে ফল লাভ হয়, একবার রাধাষ্টমী ব্রত পালনে তার শতাধিক ফল পাওয়া যায়।
পুরাণ অনুযায়ী,অবহেলায় বা অশ্রদ্ধায় যদি কোন পাপিষ্ঠ এ ব্রত পালন করে, তাহলে তারও বৈকুণ্ঠলোকে গতি হয়।
পদ্মপুরাণের স্বর্গখন্ডের চল্লিশতম অধ্যায়ে বলা হয়েছে, সত্যযুগে লীলাবতী নামে একজন পতিতা ছিল, একদিন নগর ভ্রমণ করতে গিয়ে এক সুসজ্জিত মন্দিরে রাধাঠাকুরাণীর পুজো উদযাপন দেখতে পেয়ে ব্রতীদের কাছে গিয়ে সে তাদের জিজ্ঞেস করল- হে পূণ্যাত্মা সকল! তোমরা এত যত্ন সহকারে কোন ব্রত উদযাপন করছো? তখন ব্রতীগন বললেন- আমরা রাধাষ্টমী ব্রত পালন করছি। এই রাধাঅষ্টমী ব্রত গোঘাত জনিত পাপ, স্তেয়জ, ব্রহ্মহত্যা জনিত অথবা স্ত্রীহত্যাজনিত সকল পাপই বিনাশ করে।
তাদের থেকে রাধাষ্টমীর মাহাত্ম্য শুনে সেই পতিতাও স্বেচ্ছায় ব্রত পালন করেন। পরদিন সর্প দংশনে তার মৃত্যু হলে যমদূতগণ আসেন, তাকে বেঁধে যমলোকে নিয়ে যেতে, তখন বিষ্ণুদূতগন এসে বন্ধন মুক্ত করে তাকে বৈকুণ্ঠলোকে যান।
অর্থাৎ এক অধঃপতিত বেশ্যাও কেবলমাত্র রাধাষ্টমী ব্রত পালন করলে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বৈকুণ্ঠেলোকে যেতে পারে।