সংবাদদাতা,জলপাইগুড়িঃ- শারদীয় উৎসবের পুণ্য তিথিতে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও সনাতন ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমে মহাসমারোহে উদযাপিত হলো প্রথাগত কুমারী পূজা। সোমবার মহাষ্টমীও মহানবমীর পুণ্য তিথিতে এই বিশেষ আধ্যাত্মিক আচার প্রত্যক্ষ করতে আশ্রম প্রাঙ্গণে ভেঙে পড়ে অগণিত পুণ্যার্থীর ঢল। জলপাইগুড়ি শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আশেপাশের একাধিক জেলা থেকেও বহু মানুষ এদিন কুমারী পূজা দর্শনের উদ্দেশ্যে আশ্রমে উপস্থিত হয়েছিলেন।
আশ্রমের পরম পূজনীয় সন্ন্যাসী ও মহারাজদের শাস্ত্রীয় পরিচালনায় মা দুর্গার সজীব রূপ হিসেবে এক কোমলমতী বালিকাকে কুমারী দেবী রূপে আরাধনা করা হয়। বর্তমান যুগের অহেতুক আলোকসজ্জা বা বাহ্যিক আড়ম্বরকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে, রামকৃষ্ণ মিশনের নিজস্ব পরম্পরা অনুযায়ী সাত্ত্বিক আবহাওয়া ও কঠোর সনাতন আচার মেনেই এখানে সামগ্রিক পূজা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি এবং ধূপ-ধুনোর সুবাসে সমগ্র আশ্রম চত্বরে এক স্বর্গীয় ও পবিত্র পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বছরের এই বিশেষ সময়টায় ভক্তমহলে এক আলাদা আবেগ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। উৎসবের এই দিনে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে আশ্রম চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল বেশ কঠোর এবং সুশৃঙ্খল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সাথে দেবী দর্শন করেন এবং পুজো শেষে দেবীর আশীর্বাদ ও প্রসাদ গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে, এদিনের কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন প্রাঙ্গণ জুড়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক উৎসবের আবহ তৈরি হয়।