দক্ষিণ বাংলা

‘শেষ বসন্ত’ পালনে মেতে উঠল ‘কণিকাঞ্জলি’র শিক্ষার্থীরা

By Eaibanglai - April 03, 2025
— Advertisement —
Advertisement
‘শেষ বসন্ত’ পালনে মেতে উঠল ‘কণিকাঞ্জলি’র শিক্ষার্থীরা

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, কলকাতা -: ফাল্গুন মাস শেষ। চৈত্র মাসও শেষের পথে। সকাল হতে না হতেই পরিবেশে দুপুরের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে। মাথার উপর গনগনে সূর্যের তাপ তখন ৪০°সে. ছুঁয়ে ফেলেছে। কার্যত বসন্তের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠেছে। ঠিক সেই সময় ‘শেষ বসন্ত’ পালনের মাধ্যমে একটুকরো বসন্তের ছোঁয়া পেল কলকাতার রবীন্দ্র সদনে উপস্থিত কয়েক’শ দর্শক। সৌজন্যে হাওড়ার ‘কণিকাঞ্জলি’ নামক একটি সাংস্কৃতিক চর্চা সংস্থার শিক্ষার্থীরা। সারা বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেতে থাকলেও এটি ছিল তাদের বাৎসরিক সমাবর্তন অনুষ্ঠান। ফলে সবার মধ্যে ছিল একটা আলাদা উৎসাহ।

সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট সংস্থার ছাত্রছাত্রীরা ‘টুকরো টুকরো ছবি-কিছু নাটক কিছু কবিতা’-র সম্পূর্ণ ছবির ডালি নিয়ে হাজির হন রবীন্দ্র সদনে। সংস্থার তিন কর্ণধার সুদীপ্ত মিত্র, শিল্পী মিত্র ও শুভেচ্ছা মিত্রের নির্দেশনায় একে একে আটটি নাটক তারা পরিবেশন করেন। পরিচিত সঙ্গীতের বাইরে বেরিয়ে ‘বসন্ত কথন’ ও ‘বসন্ত আলাপন’-এ মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। নাটকের চরিত্রগুলোর মধ্যেই জীবন্ত হয়ে ফুটে ওঠে বসন্ত। সঙ্গে ছিল কবিতা এবং নাচ। তার মধ্যেও ছিল অভিনবত্বের ছোঁয়া। ‘বসন্তে বসন্তে তোমার, কবিরে দাও ডাক’ দিয়ে ‘আজ সবার রঙে রঙ মিশাতে হবে’-র আনন্দের মাঝে ওদের মনে যখন ‘মধুর মধুর ধ্বনি বাজে’ তখন ‘ওরা অকারণে চঞ্চল’ হয়ে উঠলে সত্যিই ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’ সার্থক হয়ে ওঠে।

সবমিলিয়ে ৩ ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শুভেচ্ছা মিত্র। প্রসঙ্গত ‘কণিকাঞ্জলি’ সিকি শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এলাকার ছেলেমেয়েদের মনে সাংস্কৃতিক ঘরানা সৃষ্টি করে চলেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়। পূজারিণী নাটক ও সমবেত কবিতায় তার অংশগ্রহণ ছিল দর্শকদের কাছে বাড়তি পাওনা। তিনি প্রতিটি শিল্পীর অভিনয়ের প্রশংসা করেন।

সংস্থার সৌজন্যে এই প্রথমবার কোনো মঞ্চে উপস্থিত ছিল ক্ষুদে শিল্পী অর্জুন চৌধুরী। নামের প্রতি সম্মান রেখে সে তার লক্ষ্যভেদে সফল হয়। তার বক্তব্য – অত লোকের সামনে মঞ্চে উঠে তার একটুও ভয় লাগেনি। তবে শুধু অর্জুন নয় মিঠু, মিশকা, অদ্রিজা সহ অন্যরাও তাদের দক্ষতার পরিচয় দেয়।

প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে যেভাবে দর্শকরা উপস্থিত হয়েছেন তারজন্য সংস্থার পক্ষ থেকে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেচ্ছা দেবী বললেন, বসন্তের শেষ লগ্নে গ্রীষ্ম যখন তার তীব্র দাবদহ মাথায় করে তুলেছে তখন বসন্তের ছোঁয়া আনা খুবই কঠিন কাজ। আমরা সবাই মিলে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করেছি। উপস্থিত দর্শকদের ভাল লাগলে আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement