নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- আন্তঃরাজ্য বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বর, অণ্ডাল এবং বীরভূমের মুরারই থানা এলাকায় দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়ে মোট ৩৮টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২২ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি খালি ম্যাগাজিন এবং ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক সহ বিপুল পরিমাণ ডিটোনেটর ও বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করেছে গোয়েন্দারা। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ, ৫ নভেম্বর দুর্গাপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সাফল্য ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মেগা অভিযানের সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩০ জুলাই, যখন জামুড়িয়ার বেলবাইড মোড় থেকে খাইরুল আলম চৌধুরী ওরফে গদাই শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, বিহারের মুঙ্গের থেকে বেআইনি অস্ত্র এনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এরপর ৪ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে মহম্মদ সামশের হুসেন নামে আরেক অভিযুক্তকে ধরা হয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ৯ আগস্ট অণ্ডালের একটি পরিত্যক্ত ইসিএল আবাসন থেকে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৭ রাউন্ড কার্তুজ মেলে। এরপর গত ২৬ অক্টোবর পাণ্ডবেশ্বরের ডালুরবাদের বাসিন্দা শেখ সাহাজাহানকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ নভেম্বর পাণ্ডবেশ্বরের ধান্যভাঙা গ্রামের একটি কৃষিজমিতে লুকিয়ে রাখা ৬টি দেশি লম্বা বন্দুক, ৪টি পিস্তল, ১১টি পাইপগান এবং ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়।
অন্যদিকে, ৪ নভেম্বর রাতে বীরভূমের মুরারই থানার বারুয়া গোপালপুরে বীরভূম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় আরেকটি বড় অভিযান চালায় এসটিএফ। সেখান থেকে মহম্মদ রেজা শেখ ও মুকেশ সিং নামে দু'জনকে গ্রেফতার করে ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক, ১,০৬৪টি ডিটোনেটর এবং ৩২ রোল (প্রতিটি ৩৭৫ মিটার) বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের সঙ্গে ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে বেআইনি অস্ত্র সরবরাহের যোগসূত্র মিলেছে।
এসটিএফের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরণের আন্তঃরাজ্য বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার রুখতে আগামী দিনেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।