এই বাংলায়

প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পর জনসংযোগ বাঁকুড়া পৌরসভার পৌর প্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের

By Eaibanglai - February 15, 2020
— Advertisement —
Advertisement

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়ার রবীন্দ্রভবনে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়া পৌরসভার পৌর প্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তের কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে নির্দেশ দেন কোন ভুল করলে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষমা চেয়ে আসতে। কার্যত মুখ্যমন্ত্রীর সেই বাণীকে শিরোধার্য করতে এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশমতো এদিন মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বাঁকুড়া পৌরসভার নিজের এলাকা লোকপুর অর্থাৎ ১৩ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করলেন। প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেন তাদের অভাব অভিযোগ শুনলেন। বাংলার আবাস যোজনায় সাধারণ মানুষ যে বাড়ি পেয়েছেন সেই বাড়িগুলি তিনি সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন এবং এখনো পর্যন্ত যারা সরকারি আওতায় বাড়ি পায়নি তাদের দ্রুত বাড়ি পাওয়ার আশ্বাস দিলেন। ওয়ার্ডবাসীরা পৌর প্রধানের এই কর্মসূচীকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমার অভিভাবক মুখ্যমন্ত্রী আমায় বলতেই পারেন। তবে শুধু আজকে বলে নয় এটা আমার প্রতিদিনের একটা কর্মসূচির অঙ্গ মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখা। শুধু আমার নিজের বলে নয় পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ডে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরি। এটাই তো আমাদের কাজ মানুষের কাছে যেয়ে খোঁজ খবর নেওয়া মানুষের কাজ করা মানুষের অভাব অভিযোগ সোনা। পৌরপ্রধান বলেন বাঁকুড়া শহরে জল নিয়ে সেই অর্থে কোন সমস্যা নেই। তবে ভোটের সাথে এই কর্মসূচির কোন সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি। তিনি বলেন এটা আমাদের একটা দৈনন্দিন কর্মসূচি। বাঁকুড়া শহরের ঐতিহাসিক কাজ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি জল বলুন হাসপাতাল বলুন। তবে বিরোধীরা আমাদের বিরুদ্ধে বলার মত কোন ইস্যু খুঁজে পাবে না। কাজের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন কাজ করতে গেলে ভুলত্রুটি কখনো কখনো হতে পারে তবে আমি সেই ভুল ত্রুটি গুলি খুঁজছি, কোথায় ভুল করলাম। মুখ্যমন্ত্রী যাদের ভালোবাসেন তাদের একটু শাসন করেন মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ধুমকেছেন এটা আমি ভালোভাবেই নিয়েছি। আমার কাছে এটা একটা শিক্ষা আরো ভালোভাবে কাজ করার চেষ্টা করব। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তার চেতনার বিকাশ হয়েছে আমরা বাঁকুড়া বাসী হিসেবে খুশি এটা চলুক। আর সরকারি যারা প্রতিনিধি আছেন যারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন না মুখ্যমন্ত্রীর কথায় তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করেন এবং সাধারন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাঁকুড়া বাঁশি হিসেবে নিশ্চয়ই আমরা উপকৃত হব। বিজেপি নেতা নীলাদ্রি শেখর দানা , বলেন আজকে অনেক দেরিতে হলেও আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সম্বিত ফিরেছে। তিনি নিজে এসে বাঁকুড়া পৌরসভার হাল হাকিকত দেখে গেলেন এবং সমস্ত টাই একদম কাগজে-কলমে দেখে গেলেন। বাঁকুড়া পৌরসভার পৌর প্রধান বিগত ২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর বিরোধীদের কোন মান্যতা তো দেয়নি নিজের দলের কাউন্সিলরদের প্রতি কোনরকম কর্ণপাত করেননি। ভাইস চেয়ারম্যান কে পর্যন্ত ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন। ভাইস চেয়ারম্যান বারবার ধরে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কে জানিয়েছেন। আবার একটা ভোট এসেছে সেই ভোট বৈতরণী কিভাবে পার করা যায় সেটার জন্য জনগণের কাছে একটা গিমিক দেখালেন তিনি। তার জন্য আজকে বাঁকুড়া পৌরসভা পৌরপিতা তিনি নিজে তার নিজের ওয়ার্ড থেকে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে আজ চার বছর সেখানে মুখদর্শন করেননি। আজকে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন কোথায় প্রধানমন্ত্রীর ঘর হয়েছে, কোথায় রাস্তা ভেঙেছে, কোথায় ড্রেনের জল যাচ্ছে না। এটা আজ পাঁচ বছর আগের থেকে যদি দেখতেন তাহলে আজকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর এই কথা বলতে হতো না। আর এটা টোটালি একটা সাজানো নাটক ২০২০ তে আরও একটা পৌর ভোট, ভোট বৈতরণী কি করে পার করা যায়। আর তার রাজনৈতিক গুরু প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে মাননীয়া চলছেন, ভাইপো চলছেন এবং তার ভাই ও ভাইয়েরা চলছেন। বাঁকুড়া পৌরসভা তার কোন ব্যতিক্রম নয়। এখানে পুরো লুটতরাজ চলছে। বাঁকুড়া পৌরসভা লোকসভায় দেখিয়ে দিয়েছে জনগণ ২৪ টা ওয়াডের মধ্যে ২৩ টা ওয়ার্ড ব্যাপকভাবে লিড দিয়েছে বিজেপি। আগামী পৌর নির্বাচনে মানুষ রেডি হয়ে আছে ভোটের দিনে বোতাম টিপে বুঝিয়ে দেবে দুর্নীতিকে মানুষ কোনরকম প্রশ্রয় দেয় না।

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement