সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- কর্তব্যরত অবস্থায় বুকে ব্যথা উঠলেও মিলল না জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে এক রেলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার চরম উত্তেজনা ছড়াল আসানসোল রেল হাসপাতাল চত্বরে। মৃতের নাম সাহেব হুসেন। তিনি রেলের টিআরডি বিভাগের কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এই মৃত্যু, এই অভিযোগে সরব হয়েছেন নিহতের সহকর্মী ও রেল কর্মচারীরা।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে আসানসোল ডিভিশনের অন্তর্গত কুমারডুবিতে ডিউটি ব্রেকের সময় সাহেব হুসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি সহকর্মীদের ফোন করে জানান যে তাঁর বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সহকর্মীরা অবিলম্বে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেলের অ্যাম্বুল্যান্সের দাবি জানান। কিন্তু অভিযোগ, হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, কুমারডুবি পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো সম্ভব নয়।
এর পর রাত প্রায় ১০টা নাগাদ বিষয়টি সিএমএস প্রশাসন ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জানানো হয়। তাঁদের কাছ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস মিললেও, বাস্তবে কোনো অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। সময় পেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সাহেব হুসেনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। শেষপর্যন্ত টিআরডি বিভাগের এক সিনিয়র আধিকারিক উদ্যোগ নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালককে কুমারডুবিতে পাঠান। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, গাড়িটি পৌঁছনোর আগেই সাহেব হুসেন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রেলকর্মীরা। বুধবার আসানসোল রেল হাসপাতালে মৃতদেহ আসতেই সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারী রেলকর্মীদের প্রশ্ন, আসানসোল ডিভিশনেরই অংশ হওয়া সত্ত্বেও যদি কুমারডুবিতে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুল্যান্স না পাঠানো হয়, তবে প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত হাজার হাজার রেলকর্মীর সুরক্ষার দায়িত্ব কে নেবে? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ‘অ্যাডভান্স লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুল্যান্স’ থাকা সত্ত্বেও কেন তা সঠিক সময়ে কাজে লাগানো গেল না, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। এই ঘটনায় দোষী আধিকারিকদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।