সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রানিগঞ্জের মঙ্গলপুর এলাকায় প্রায় ১৫২ কাঠা জমির উপর বিস্তৃত জলাশয়টি এলাকায় ‘মালা পুকুর’ নামে পরিচিত। বহু পুরনো এই জলায়শটি শিল্পের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ধীরে ধীরে ভরাট করার চেষ্টা চলছে বলে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমল থেকেই মঙ্গলপুরের এই জলাশয়ের অস্তিত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে এই জলাশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। সরকারি ভূমি রেকর্ডে এই জলাশয়ের জমি আসানসোল-দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির নামে নথিভুক্ত রয়েছে বলেও দাবি তাদের। আগের সরকারের আমলে জলাশয়ের সংলগ্ন কিছু জমি রানিগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সেই লিজ নেওয়া জমির আড়ালেই জলাশয়ের একটি অংশও ধীরে ধীরে ভরাট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২২ কাঠা অংশে মাটি ফেলে জলাশয় ভরাট করা হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। পাশাপাশি জলাশয়ের কিছু অংশ ঘিরে পাকা বাউন্ডারি দেওয়ালের কাজও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জলাশয়ের প্রকৃত সীমানা কতটা এবং কোন অংশে কী ধরনের নির্মাণ বা ভরাটের কাজ হয়েছে, তা প্রশাসনিকভাবে পরিমাপ ও তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের পাশাপাশি রানিগঞ্জ বিএলআরও অফিসেও লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও জলাশয় বা জলাশয়ের চরিত্র পরিবর্তন করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন । তাই ‘মালা পুকুর’-এর ক্ষেত্রে কোনও সরকারি অনুমোদন বা জমির চরিত্র পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা অবিলম্বে প্রশাসন খতিয়ে দেখুক বলে দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জলাশয়ে মাটি ফেলা, ভরাট বা নির্মাণের মতো সমস্ত কাজ বন্ধ রাখারও দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।