এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- আগামীকাল ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে অত্যন্ত বড় এবং নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। ভোটের ঠিক আগের দিনই নন্দীগ্রাম থানার বর্তমান ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অজয় কুমার মিশ্রকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। তাঁর জায়গায় নতুন আইসি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবাশিস সরকারকে। সোমবার, ৫ অক্টোবর, এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কমিশন।
কমিশনের পাঠানো ওই চিঠিতে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, নন্দীগ্রাম থানার নতুন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ হিসেবে দেবাশিস সরকারের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে হবে। সেই সঙ্গে, নতুন দায়িত্বে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে যোগ দিয়েছেন কি না— সেই সংক্রান্ত একটি 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট'ও সোমবার সন্ধ্যার মধ্যেই কমিশনের সদর দফতরে পাঠানোর জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দেবাশিস সরকার এ যাবৎকাল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুমে ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে সরাসরি নন্দীগ্রাম থানার মতো অতি স্পর্শকাতর একটি এলাকার শীর্ষ পুলিশি দায়িত্বে আনা হলো।
প্রসঙ্গত গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম থানার আইসি পদে পরিবর্তনের বিষয়ে কমিশনের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখার পরই আজ অজয় কুমার মিশ্রের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দেবাশিস সরকারের নামে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয় নির্বাচন কমিশন। যদিও ঠিক কী কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সে বিষয়ে কমিশনের চিঠিতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খোলসা করা হয়নি। তবে কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এর আগে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক মানচিত্রে নন্দীগ্রাম অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল এবং স্পর্শকাতর একটি কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। আসন্ন উপনির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে এই হেভিওয়েট থানার শীর্ষ স্তরে এমন বড়সড় রদবদল প্রমাণ করে যে, ভোট প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখতে নির্বাচন কমিশন কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ।