সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- একবার এক ভক্ত প্রশ্ন করেন যে, “শিবকে প্রলয়ের দেবতা কেন বলা হয়? শিব মানে তো কল্যাণ।”
এর উত্তরে প্রশ্ন স্বামী সোমেশ্বরানন্দ মহারাজ বলেন,“শিব প্রলয়ের, মৃত্যুর দেবতা। কার মৃত্যু?— মনের। তিনি সবসময় ধ্যানে রয়েছেন। আর ধ্যানের অর্থ মনের পারে যাওয়া। জীবভাবে প্রলয় ঘটে গেছে। শেষ হয়েছে তার। সাধক জেগে আছেন তার চৈতন্যময় সত্তায়। শিবের শরীর থেকে একটু দূরে ত্রিশূল। জগৎ গড়ে ওঠে তিন গুণের মিশ্রণে— সত্ত্ব, রজ, তম। ত্রিশূলের তিনটি শূল তারই প্রতীক। আর ডমরু নাদধ্বনির। শরীরে সাপ হলো কুণ্ডলিনী শক্তি। সামনে নন্দী (ষাঁড়) ধর্ম। সাধককে বলা হয়েছে : আগে ধর্ম পালন করো। শরীর ও মনকে সংযত করে নিজ দিব্যতার প্রকাশ। আরও গভীরে গিয়ে তিন গুণকে অতিক্রম করা। এবার ধ্যানে আরও এগিয়ে যাওয়া, স্থিত থাকা চৈতন্যময় সত্তায়। শিবের অর্ধাঙ্গিণী আদ্যাশক্তি বার-বার প্রকাশিত হচ্ছেন বা জন্মাচ্ছেন। কখনও সতী রূপে, কখনও উমা, আবার কখনও কামাখ্যা, বিন্ধ্যবাসিনী...। এর অর্থ কী? আদ্যাশক্তি সৃষ্টি করছেন, বিভিন্ন ভাবে নিজেকে প্রকাশ করছেন। তাই সতী দেহত্যাগ করেন, উমা জন্মান, দুর্গার বিসর্জন হয়। তিনি যেন এক নারীর মতোই সাজতে ভালবাসেন। নতুন নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেন। শক্তির বিভিন্ন রূপ, সৃষ্টি বৈচিত্র্যময়। অজ্ঞানীর চোখে জন্ম-মৃত্যু। কিন্তু শিব জন্মান না, মরেনও না। তাঁর জন্মান্তর নেই। তিনি মৃত্যুকে অতিক্রম করেছেন। তাই শিব মৃত্যুর প্রলয়ের দেবতা।”