এই বাংলায় দক্ষিণ বাংলা দেশ ও বিদেশ

দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের অচল অবস্থার মুখ ও মুখোশের অন্তরতদন্ত - (পর্ব দুই)

By Eaibanglai - September 08, 2026
— Advertisement —
Advertisement
দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের অচল অবস্থার মুখ ও মুখোশের অন্তরতদন্ত - (পর্ব দুই)

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- গত ৬ঠা সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের একাধিক প্রাক্তন সভাপতি সহ দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন সদস্যরা। সাংবাদিক সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল তথা আশেপাশের গ্রামগুলিতে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে যে সকল সমাজ সেবা মূলক কাজকর্ম করা হতো আপাতত তা বন্ধর মুখে। দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের একাধিক বর্ষিয়ান প্রাক্তন সভাপতি রা ওইদিন উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে জানিয়ে ছিলেন ক্লাবের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ গন্ডগোলের কারণে ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবকে জি-মেইল মারফত এক চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে আপাতত ক্লাবের সমস্ত কাজকর্ম 'স্ট্যাটাস কো' (যথা-অবস্থা বা স্থিতাবস্থা)-এর আওতাভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় গত বছরের প্রাক্তন সভাপতি দ্বারা বহিষ্কৃত দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের পাঁচ সদস্যকে পুনরায় ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে জানানো হয়েছিল।

ওই সাংবাদিক সম্মেলনের পরেই গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের অচল অবস্থা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন মহল থেকে জানার চেষ্টা করা হয় এই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের অচল অবস্থার পেছনে মূল কারণ কি? 

স্বভাবতই 'চ্যানেল এই বাংলায়' নিজ উদ্যোগে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী একাধিক দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের প্রাক্তন সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে এক অন্তরতদন্ত শুরু করে।  সেই অন্তর তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য যা এতদিন জনসমক্ষে তেমনভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ।

'চ্যানেল এই বাংলায়'এর অন্তরতদন্ত থেকে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের কাছ থেকে অনুমোদন( চার্টার) পায় দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব। সেই সময় কম বেশি নাকি প্রায় ৪২ জন সদস্য ছিলেন এই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবে । বলে রাখা ভালো সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, গুণীজন, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ছিলেন এই দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সদস্য। ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী এককালীন বহু টাকা সদস্যপদ পাওয়ার জন্য দিতে হতো বলে সাধারণ মানুষ খুব একটা এইরকম ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারতেন না। প্রতিবছরেই নাকি দিতে হয় সদস্যপদ নবীকরণের জন্য মোটা টাকা আজও ।

ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়া মানে শুধুমাত্র 'স্ট্যাটাস সিম্বলি' নয়। তার সাথে জড়িয়ে রয়েছে বিশাল সমাজসেবা মূলক কর্মকাণ্ডের অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া। সারা পৃথিবী জুড়ে ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয় যার মধ্যে অন্যতম হলো শিশু শরীরে ক্যান্সারের প্রতিরোধ, ডাইবেটিস নির্মূল করা, দুর্যোগে দূর্গতদের পাশে দাঁড়ানো, সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা, মানবিক সেবা, ক্ষুধার্ত মানুষদের খাবার বিতরণ, যুবসমাজকে অগ্রগতির পথ দেখানো সহ চক্ষু সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে নিরন্তর প্রয়াস করে চলা।

১৯৭৫ সালে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকার মানুষকে যথাসাধ্য মানবিক সেবা প্রধান করে এসেছে সু-নামের সাথে। কিন্তু হঠাৎই ২০০১ সালে তখনকার কিছু সদস্যদেরকে নিয়ে নতুন করে একটি ট্রাস্ট তৈরি করা হয় এবং তার নাম দেওয়া হয় দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এখান থেকেই শুরু হয় এক গভীর ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত বলে অভিযোগ। একটি সুত্র মারফত জানা গেছে ২০০১ সালে ওই ট্রাস্টের যে সকল মেম্বার ছিলেন তারা সমাজ সেবাকে আরো প্রসারিত করার লক্ষ্যে নাকি ওই ট্রাস্ট টি তৈরি করেছিলেন। সূত্র মারফত এও জানা গেছে তখন ওই ট্রাস্ট টির সদস্য সংখ্যা ছিল কমবেশি ৫০ জনের মতো ছিল। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ওই ট্রাস্টর সরকারি নথিতে উল্লেখযোগ্য ভাবে লেখা হয়েছে যে এই ট্রাস্ট টি কোনভাবে Ammended বা সংশোধিত করা যাবে না।

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে যখন ইন্টারন্যাশনাল লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে সকল প্রকারের সমাজ সেবা করার উন্মুক্ত প্রসার ছিল, তখন কোন উদ্দেশ্যে আবার নতুন করে একটি ট্রাস্ট তৈরি করা হলো এবং কেন এই ট্রাস্টের নাম করে কয়েক কোটি টাকা খরচা করে এক সুদৃশ্য হাসপাতাল তৈরি করা হলো ও পরিচালনা শুরু হলো? 

দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে এখন পর্যন্ত কমবেশি ১৫ জনের কাছাকাছি সদস্য রয়েছেন। ২০০১ সালে ওই ট্রাস্টের কমবেশি ৫০ জনের মতো সদস্য ছিলেন তার বেশির ভাগ সদস্যই হয় মারা গিয়েছেন নয়তো ট্রাস্ট থেকে স্বেচ্ছায় বেরিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫০ র কাছাকাছি। ওই সকল সদস্যদের মধ্যে কমবেশি শুধুমাত্র ১৫জনের মতো দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে সদস্য আছেন। দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের এখনো অবধি যে ১৪০ জনের কাছাকাছি সদস্য রয়েছেন তাদের কাছে নাকি দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে সদস্যপদ বা যোগদান করার কোন সুযোগ নেই বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সকল মেম্বারদের কে অন্ধকারে রেখে পুরনো যুগের জমিদারি প্রথা চলছে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের আড়ালে?

সুত্র মারফত এও জানা গেছে, দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সরকারি নথি অনুযায়ী নাকি শুধুমাত্র ওই ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্যরায় এই ট্রাস্টের সদস্য বা মালিক হিসেবে গণ্য হবেন। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা প্রশ্ন করেছেন সমাজসেবার আড়ালে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কি করে দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাব ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নিজেদের দখলে রাখতে পারে ও দুর্গাপুর লায়ন্স ক্লাবের সকল সাধারণ সদস্যদেরকে বঞ্চিত করে। তাহলে কি সমাজসেবার নামে দানের টাকায় চলছে জমিদারি প্রথা? 

চলবে....................

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement