eaibanglai
Homeএই বাংলায়কয়লা পাচার মামলায় আসানসোল দুর্গাপুর সহ নয় জায়গায় ইডির হানা, উদ্ধার প্রচুর...

কয়লা পাচার মামলায় আসানসোল দুর্গাপুর সহ নয় জায়গায় ইডির হানা, উদ্ধার প্রচুর নগদ ও নথি

সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- মঙ্গলবার সাত সকালে আসানসোল দুর্গাপুরের একাধিক ব্যবসায়ী সহ বর্ধমান, দিল্লি মোট ৯টি জায়াগায় হানা দিয়ে তল্লাশি চলাল কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা ইডি। উল্লেখযোগ্যভাগে এদিন বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও হানা দেয় তদন্তকারী অফিসাররা। সূত্রের খবর, কয়লা পাচারের কালো টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে কোনপথে কার কার কাছে গেছে, তার খোঁজেই এই অভিযান ইডির।

মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুর মহকুমার একাধিক জায়গায় হানা দেয় ইডির বিশেষ দল।একইভাবে, অভিযান চলে পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মইদুল, জামুড়িয়ায় ব্যবসায়ী রাজেশ বনশল, কাঁকসার হাসিম মির্জা রেজা ও রানিগঞ্জের কিরন খানের বাড়িতে। ইডি সূত্রের খবর জামুড়িয়ায় রাজেশ বনশলের বাড়ি থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গেছে। দুপুর তিনটের পরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে তিনটি হলুদ রঙের বস্তা হাতে দুজন ইডির আধিকারিক বেরোন। তাদের পাহারা দিয়ে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। মনে করা হচ্ছে, এই তিনটি বস্তার ভেতরে রয়েছে উদ্ধার হওয়া টাকা ও নথি। এর আগে এসবিআইয়ের তিনজনকে এই হলুদ রঙের বস্তা নিয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তাতে টাকা গোনার মেশিন রয়েছে।

অন্যদিকে এদিন সকালে সদ্য বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব পাওয়া মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের অম্বুজানগরীর বাড়িতে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। কয়েকদিন আগেই বুদবুদ থানায় পোস্টিং পেয়েছেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। তবে তিনি এখনও চার্জ নেননি। উল্লেখ্য, বারাবনি থানার ওসি থাকাকালীন ওসির চেম্বারে বারাবনির এক শাসক দলের নেতার জন্মদিন পালন করে এই মনোরঞ্জন মণ্ডল বিতর্কে জড়ান। বারাবনি থানার ওসি পদে থাকাকালীনই দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ২০২৪ সালে সাসপেন্ড করা হয়েছিলো। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছিলো। এরপরে, তাকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসআই পদে আনা হয়েছিলো। সেখান থেকে তাকে দিন কয়েক আগেই বুদবুদ থানার ওসি করা হয়। এদিন তাকে ইডি আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানা যায়। অভিযান চলাকালীন পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী।

এর পাশাপাশি দুর্গাপুরে সেপকো টাউনশিপে বালি কারবারি প্রবীর দত্তর বাড়িতে এ দিন সকাল ছ’টা নাগাদ হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। সিটি সেন্টার অঞ্চলে অম্বেদকর সরণিতে একটি বাড়িতেও হানা দেয় ইডির আধিকারিকদের একটি দল।

এছাড়াও এদিন পান্ডবেশ্বর ও কাঁকসায় দুই বালি কারবারি বাড়িতে হানা দেয় ইডির দল। সরকারি নিয়ম মেনে টেন্ডারে অংশ নিয়ে বৈধ বালি ঘাট থেকে বালি তোলার পাশাপাশি একাধিক জায়গায় অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

একই সঙ্গে, এদিন সকালে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডির আধিকারিকরা আসানসোলের জামুরিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলা এলাকার সাবান ফ্যাক্টরি লেনে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী রাজেশ বনসালের বাড়িতে অভিযান চালান। তবে, এদিন সকালে যখন জামুড়িয়ায় বশনল বাড়িতে ইডি আসে, তখন রাজেশ বনশল ছিলেন না৷ প্রায় ১২ ঘন্টা অভিযান শেষ করে এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ ইডির আধিকারিকরা ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্রে কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শ দাতা আইপ্যাকের দফতরে ও আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। ওইদিন দুই জায়গাতেই পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিভিন্ন নথি ও ফাইল বের করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাককাণ্ডে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানির মধ্যে এদিন ফের কয়লাকাণ্ডে বড়সড় অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments