সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রেল শহর চিত্তরঞ্জনে ঘটে চলা একের পর এক দুষ্কৃতীকর্মের মাথা এক নাবালক দুষ্কৃতী গ্রেফতার করল পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের সাহারডাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ বছরের ওই নাবালক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ, লুটকাণ্ডে ব্যবহৃত বাইক এবং একাধিক লুটের সামগ্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে রাতে চিত্তরঞ্জন রেল শহরের ৭০ নম্বর রাস্তায় কবিতা রেনু নামে এক মহিলা বাইক আরোহী ছিনতাইবাজদের কবলে পড়েন। দুই দুষ্কৃতী তাঁর মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র-সহ হাতব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এর কয়েকদিন আগেই, ৪ মে মিহিজামের ঢেঁকিপাড়া কবরস্থান এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এক রেলকর্মীর সর্বস্ব লুট করে তিন দুষ্কৃতী। এই দুই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গোটা চক্রের মূল মাথা এক নাবালক।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জামতাড়ার পুলিশ সুপার শম্ভু কুমার সিং মিহিজাম থানার ওসি প্রদীপ রানাকে বিশেষ দায়িত্ব দেন। এরপর একটি বিশেষ দল গঠন করে ঝাড়খণ্ডের সাহারডাল এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই ধরা পড়ে ১৭ বছরের ওই নাবালক।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ সুপার শম্ভু কুমার সিং জানান, “চিত্তরঞ্জনের ঘটনায় দুই এবং মিহিজামের ঘটনায় তিনজন জড়িত থাকলেও পুরো চক্রকে পরিচালনা করছিল ওই নাবালক।” তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ বিনোদ যাদব নামে এক ব্যক্তির উপর এলোপাথাড়ি গুলিচালনার ঘটনাতেও যুক্ত ছিল এই নাবালক। সেই ঘটনায় বিনোদ যাদব প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে কীভাবে ওই নাবালকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, বাইক এবং এত বড় অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণ এল, তা নিয়ে বিস্মিত তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড জুড়ে সক্রিয় একটি বড় অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে এবং সেই নেটওয়ার্কের সাহায্যেই এতদিন আত্মগোপন করে ছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই চক্রের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।


















