eaibanglai
Homeএই বাংলায়মুছে গেল এক শিল্পযুগের স্মৃতি: চিরবিদায় বিএসএনএল টাওয়ারের​

মুছে গেল এক শিল্পযুগের স্মৃতি: চিরবিদায় বিএসএনএল টাওয়ারের​

অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, সালানপুর -: রূপনারায়ণপুরের আকাশের ক্যানভাসে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে ধাতব রেখাটি এক পরিচিত ল্যান্ডমার্ক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, আজ তা শুধুই ইতিহাস। ১৭ জুলাই হিন্দুস্তান কেবলসের পরিত্যক্ত চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ৬০ মিটার উচ্চতার বিএসএনএল টাওয়ারটি খণ্ড খণ্ড করে কেটে ফেলার মধ্য দিয়ে যবনিকা পড়ল এক গৌরবময় অধ্যায়ের। সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় নেমে এল বিষাদের ছায়া।

​একসময় যে টাওয়ারটি ৩ থেকে ৫ কিমি. ব্যাসার্ধের বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করত, সময়ের স্রোতে তা আজ পরিত্যক্ত ইস্পাতের স্তূপ। কর্মীস্বল্পতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জৌলুস হারিয়েছিল এই কাঠামোটি। তার ওপর চোরেদের উপদ্রব ও কাঠামোগত দুর্বলতা একে পরিণত করেছিল এক আশঙ্কায়। নিরাপত্তার খাতিরে সরকারি নিয়ম মেনে টাওয়ারটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিলেও, স্থানীয়দের মনে ভিড় করেছে হাজারো স্মৃতি। বিজেপি নেতা সঞ্জয় শর্মা-সহ স্থানীয়রা প্রশাসনিক নথি যাচাই করে কাজে সম্মতি দিয়েছেন এবং পুলিশি নিরাপত্তায় তা সম্পন্ন হয়েছে, তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে- বিকল্প কী? টাওয়ারটি সরানোর ফলে এই শিল্পাঞ্চলে নেটওয়ার্ক পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা এখন তুঙ্গে।

হিন্দুস্তান কেবলসের পতনের পর এই টাওয়ারটি ছিল সেই শিল্পযুগের অবশেষ। আজ সেই লোহালক্কড় সরিয়ে ফেলায় শুধু একটি টাওয়ারই ধ্বংস হলো না, মুছে গেল সরকারি পরিষেবার এক জীবন্ত প্রতীক।

এলাকার মানুষ দেখল, সময়ের নিয়মে কীভাবে তাদের স্মৃতির মিনারগুলো একে একে ধুলোয় মিশে যায়। টাওয়ারের অবশেষ হয়তো লোহা হিসেবে বিক্রি হবে, কিন্তু আকাশ দেখার সেই পুরনো অভ্যেসটা বোধহয় আজ থেকেই কিছুটা ফাঁকা হয়ে গেল এলাকার বাসিন্দাদের কাছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments