সংবাদদাতা, দুর্গাপুর ও বাঁকুড়াঃ- ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে নজিরবিহীন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। বৃহস্পতিবার কলকাতা সহ বিভিন্ন জেলার পৌরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসগুলিতে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। প্রসঙ্গত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন এই অনিয়মগুলি সামনে আসে।
এদিন সারা রাজ্যের পাশাপাশি দুর্গাপুর নগর নিগমেও চলে পুলিশের অভিযান। পুলিশের তদন্তকারী দল পুরসভায় গিয়ে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সব নথি খতিয়ে দেখে এবং অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে।
অন্যদিকে এদিন বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশের একটি বিশাল দল বাঁকুড়া পৌরসভা ও একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে হানা দেয়। এই অভিযানে এদিন সকালে ঘিরে ফেলা হয় বাঁকুড়া পৌরসভা ভবন। ভেতরে ঢোকার এবং বেরোনোর সমস্ত পথ সিল করে দিয়ে শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। অভিযানের সময় বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক আলমারি, কম্পিউটার ডাটাবেস এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও পুলিশ খতিয়ে দেখার জন্য বাজেয়াপ্ত করে।
এই আচমকা অভিযানের জেরে পৌরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসগুলিতে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত এদিন কলকাতা, বীরভূমের (সিউড়ি, রামপুরহাট, দুবরাজপুর), কোচবিহার, দুর্গাপুর, শিলিগুড়ি এবং নদিয়ার (কল্যাণী, গয়েশপুর, হরিণঘাটা) বিভিন্ন পৌরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসে পুলিশি অভিযান চালায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এক বাবৃতিতে জানিয়েছেন, এবার থেকে আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না রাজ্যের পুরপ্রধান এবং পঞ্চায়েত প্রধান বা জনপ্রতিনিধিরা। এ বার থেকে সরকারি আধিকারিকেরা এই শংসাপত্র দেবেন। ১৯৯৭ সাল থেকে নথিবদ্ধ হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নতুন করে যাচাই করা হবে এবং একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার তৈরি করে তা কেন্দ্রের পোর্টালে যুক্ত করা হবে।
এর কারণ হিসাবে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে বিস্তর গরমিলের প্রমাণ মিলেছে। সবচেয়ে বেশি জাল শংসাপত্রের প্রমাণ মিলেছে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর সময়ে।


















