eaibanglai
Homeএই বাংলায়ব্যাঙ্কে বোনের কঙ্কাল! প্রশাসনিক অমানবিকতার চরম নিদর্শন

ব্যাঙ্কে বোনের কঙ্কাল! প্রশাসনিক অমানবিকতার চরম নিদর্শন

এই বাংলায় ওয়েবডেস্কঃ- ​সাধারণতন্ত্রের উৎসবে যখন দেশ মেতেছিল, ঠিক সেই ২৬ জানুয়ারি মারা যান ওড়িশার কেওনঝড় জেলার মালিপোসি গ্রামের বাসিন্দা কলরা মুন্ডা। তার ওড়িশা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা ছিল মাত্র ১৯,৩০০ টাকা। কিন্তু সেই সামান্য সম্বলটুকুর জন্য তার দাদা জিতু মুন্ডাকে যে লড়াই লড়তে হলো তা সভ্য সমাজের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমস্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো।

​বোন কলরার মৃত্যুর পর তার জমানো টাকা তুলতে বারবার ব্যাঙ্কে ছুটে গিয়েছিলেন নিরক্ষর আদিবাসী মানুষটি। কিন্তু ব্যাঙ্ক কর্মীদের দাবি ছিল অনড়- যার অ্যাকাউন্ট তাকেই সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। বোন যে মারা গেছেন, সেই সত্যটি সহজভাবে বোঝানোর বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন জিতু। প্রথাগত শিক্ষাহীন এই মানুষটির আর্তি কানে তোলেনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

​শেষমেশ প্রশাসনের পাথুরে দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে তিতিবিরক্ত জিতু এক চরম পথ বেছে নেন। বোনের কবর খুঁড়ে কঙ্কালটি কাঁধে নিয়ে সটান ঢুকে পড়েন ব্যাঙ্কের ভেতর। একটি আস্ত কঙ্কাল ব্যাঙ্কে ঢুকে পড়তেই হুলুস্থুল পড়ে যায়। পুলিশ ও প্রশাসনের টনক নড়লেও ততক্ষণে আমাদের দেশের অমানবিক ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটি জনসমক্ষে বেরিয়ে এসেছে।

​২৬ জানুয়ারি ক্যালেন্ডারের পাতায় উৎসবের দিন হলেও, জিতু মুন্ডার মতো মানুষদের জন্য তা এক নির্মম পরিহাস হয়েই রইল। মৃত মানুষকে ব্যাঙ্কে হাজির করার এই করুণ দৃশ্য প্রশ্ন তুলল আমাদের সংবেদনশীলতা ও প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনের যৌক্তিকতা নিয়ে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments