মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- গত শুক্রবার ৫৪(চুয়ান্ন) ফুট এলাকায় তোলাবাজ, লম্পট ‘চাটাই মাস্টার’ রমাকে তার নিজের ওয়ার্ডে নিয়ে আসে পুলিশ ও তল্লাশি চালায়। তখনই রাগে ফুটতে থাকা তারই এলাকার আম জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাদের মুখে একটাই দাবি- “চোর, লম্পট রমাকে তার কৃতকর্মের জন্য জনতার দরবারে ফাঁসি কাঠে ঝুলিয়ে সাজা দিতে হবে।” এদিন তাকে নিয়ে ৫৪(চুয়ান্ন) ফুট এলাকায় তার দলের পার্টি অফিসে তদন্তের সার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে নিয়ে আসে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। রমাকে নিয়ে পুলিশ এলাকায় পৌঁছাতেই জনতা বারে বারে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশের কাঁচ তোলা গাড়ির ভেতর মুখ লুকিয়ে বসে থাকা রমার দিকে শুরু হল লাগাতার কটুক্তি, স্লোগান ও চটি ছোঁড়া।

রমার ওয়ার্ডের বিজেপির এক মহিলা মোর্চার নেত্রীর নেতৃত্বে পার্টি অফিসের দরজায় সাঁটানো রমার ছবিতে প্রথমে ফুলমালা দিয়ে পরপর চটি পেটা করেন মহিলারা। বিজেপির ওই মহিলা মোর্চার নেত্রী বলেন, “এখানকার বহু মেয়ের উপর দিনের পর দিন অকথ্য অত্যাচার করেছে এই লোকটা। সেই জন্যই এখানকার মানুষ, বিশেষ করে এলাকার মেয়েরা বিরক্ত। এটা জনরোষ আমাদের কিছুই করার নেই।” তিনিই বলেন, “সামান্য টোটো চালিয়ে আমার সংসার চলে। সেটাও ভেঙ্গে দিল, কুড়ি দিন পালিয়ে ছিলাম।”
একই রকম কথা ওয়ার্ডের বিজেপির কার্যকর্তা তাপস বলেন, “উনার এসবই প্রাপ্য। গত বিধানসভা ভোটের পর উনি এলাকায় যে সন্ত্রাস, বোমাবাজি চালায়ে ছিলেন কি আর বলব। আমার ক্লাস এইটে পড়া ছেলেটাকে ও আমার ভাইকে মারল। আমাদের সব কার্যকর্তার ঘরে ভাংচুর চালানো হল। এসব মানুষ ভোলেনি।”
তদন্তের প্রয়োজনে অভিযুক্ত ধৃত নেতাকে এদিন তার বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। এদিকে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলীয় কার্যালয় চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। সেখানে যোগ দেন স্থানীয়রাও। অভিযুক্ত রমাকে দেখেই চোর চোর স্লোগান দিয়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন সকলে। শুধু চোর বলেই ক্ষান্ত থাকেননি বিক্ষোভকারীরা। দলীয় কার্যালয়ের বাইরে রমার ছবি সাঁটিয়ে তার ওপর চোর লেখা হয়। এরপর সেই ছবিতে জুতো মেরে প্রতিবাদও জানানো হয়।
সব থেকে আশ্চর্যের ব্যাপার হল এদিন রমার নিজের ওয়ার্ডের লোকেরা তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। স্থানীয় একজন জানান, রমা নাকি তার এলাকার প্রায় ২০(কুড়ি) জন মহিলার কাছে তার অবৈধ রূপে রোজগার করা সম্পত্তি লুকিয়ে রেখেছে। সেই সবেরই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি তোলেন।
সমবেত মহিলারা পুলিশের সামনেই প্রাক্তন কাউন্সিলর রমাকে দফায় দফায় চোর,লম্পট, চরিত্রহীন বলে চিৎকার করতে করতে তাকে অত্যাচারিত জনতার হাতে তুলে দিয়ে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানাতে থাকে। জনতাকে রুখতে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুক্রবার বিজেপি কর্মী সমর্থক ও স্থানীয়দের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াই। যা সামাল রীতিমতো দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
এর আরো কিছুক্ষণ পর পুলিশ রমাকে ফের নিয়ে চলে যায় দুর্গাপুর থানার লকআপে। কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে সাধারণ ওই এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ চোখে পড়ার মতো ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেন পুলিশ রমাকে জামাই আদর করে এত সুরক্ষিত ভাবে নিয়ে এসেছিল? তাহলে কি সেটিং মাস্টার রমা সবকিছু সেটিং করে ফেলেছে?




















