সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রাতের অন্ধকারে আসানসোলের রেলপার এলাকায় পুলিশ ফাঁড়িতে দুষ্কৃতী তাণ্ডব। রণক্ষেত্রের ছেহারা নিল এলাকা। হামলায় আহত হন ফাঁড়ি ইনচার্জ সহ একাধিক পুলিশ কর্মী। পরিস্থিতি সামলা দিতে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে হয় পুলিশকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শুক্রবার রাত নটা নাগাদ রেলপার এলাকায় আসানসোল উত্তর থানার অন্তর্গত জাহাঙ্গির মহল্লা বা ফৈইজি আম বাগ পুলিশ ফাঁড়িতে হঠাৎ হামলা চালায় এক দল মানুষ। হামলাকারীরা ফাঁড়ি তছনছ করে দেয়। ফাঁড়ির সামনে রাখা একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ফাঁড়ির মধ্যে থাকা সামগ্রী ও জরুরি নথি নষ্ট করে দেওয়া হয়। এমনকি হামলায় আহত হন ফাঁড়ি ইনচার্জ উজ্জ্বল সাহা সহ একাধিক পুলিশ কর্মী।
পরিস্থিতি সামলাতে দিতে পাঠানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। ছোঁড়া হয় কাঁদানে বা টিয়ার গ্যাসের সেল। প্রায় ঘন্টা খানেকের চেষ্টায় রাত দশটার পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
যদিও কি কারণে এই হামলা তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। অভিযোগ, ওই এলাকায় একটি মসজিদে মাইক বন্ধ করার জন্য পুলিশের তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছিলো। সেই কারণে এই হামলার ঘটনার কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস এই বিষয়ে জানান, ঠিক কি কারণে এই ঘটনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সিসি টিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শনিবার সকালেও এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। এলাকার সমস্ত দোকান বন্ধ রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
অন্যদিকে এই ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একদল দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রত্যেক অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। যারা পর্দার আড়াল থেকে এই ঘটনায় উস্কানি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। কাউকেই ছাড়া হবে না।” পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান এবং মনে করিয়ে দেন পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।


















