eaibanglai
Homeএই বাংলায়সৃজনী শিল্পগ্রামে সুরের মূর্ছনা, 'হৃদয় মাঝে একতারা'

সৃজনী শিল্পগ্রামে সুরের মূর্ছনা, ‘হৃদয় মাঝে একতারা’

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, বীরভূম -: রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনের লালমাটির বুকে সৃজনী শিল্পগ্রামে ‘হৃদয় মাঝে একতারা’ শীর্ষক মায়াবী সন্ধ্যায় সুরের ভেলায় ভাসলেন উপস্থিত দর্শকরা, মেতে উঠলেন সাংস্কৃতিক উৎসবে। সুরের মায়াজাল ঘিরে ধরে ‘সৃজনী’-কে। সৌজন্যে কলকাতার প্রথিতযশা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘আগন্তুক’। সঙ্গীত, আবৃত্তি পাঠ, নৃত্য – পরিচিত শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। প্রসঙ্গত, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে প্রত্যন্ত গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।

উৎসবের আমেজের সন্ধ্যায় উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। শান্তিনিকেতনের শিল্পগ্রামের উন্মুক্ত মঞ্চে মাটির গন্ধ ও একতারার সুর এক অদ্ভুত আবহের সৃষ্টি করে। আসলে অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলার সংস্কৃতিকে শহুরে ও গ্রামীণ মানুষের মেলবন্ধনে এক সুতোয় গাঁথা।

​ ​’হৃদয় মাঝে একতারা’ অনুষ্ঠানে ‘আগন্তুক’ -এর শিল্পীদের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিলেন স্থানীয় শিল্পীরা। স্থানীয় এক বাউল শিল্পী যখন একতারা ও ডুগির তালে সহজ সরল ভাষায় জীবনের গূঢ় দর্শনের কথা পরিবেশন করেন তখন তা উপস্থিত শ্রোতাদের মাটির কাছাকাছি নিয়ে যায়। একঘেয়েমি কাটানোর জন্য সঙ্গীতের ফাঁকে ফাঁকে ‘আগন্তুক’-এর সদস্যরা বর্তমান যুগে সংস্কৃতির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। পাঁচ ঘণ্টা ব্যাপী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মালবিকা ভৌমিক।

‘আগন্তুক’র সম্পাদক সৌমিত্র আচার্য বলেন, “আমাদের হৃদয়ের গভীরে যে শিকড়ের টান রয়েছে, ‘একতারা’ সেই সুরেরই প্রতীক, যান্ত্রিক জীবনে আমাদের শান্তির পথ দেখায়,”

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত শিল্পীদের সম্বর্ধনা সার্থক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ছবি ফুটিয়ে তোলে। ‘হৃদয় মাঝে একতারা’ কেবল একটি সঙ্গীত সন্ধ্যা নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জয়গান গেয়ে ওঠে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments