নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- ভোট-পরবর্তী হিংসা, প্রাণনাশের হুমকি এবং কয়লা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার কাটমানি আদায়ের মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত পশ্চিম বর্ধমানের অণ্ডাল ব্লকের বহুলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান তথা খনি অঞ্চলের দাপুটে তৃণমূল নেতা বীর বাহাদুর সিংকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মধুপুর এলাকায় এক গোপন ডেরায় হানা দিয়ে অণ্ডাল থানার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল তাকে পাকড়াও করে। শুক্রবার দুপুরে ধৃতকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বীর বাহাদুর সিংয়ের বিরুদ্ধে অণ্ডাল ও পাণ্ডবেশ্বর থানা এলাকা সহ খনি অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী ও ভোট-পরবর্তী হিংসা ছড়ানো, কয়লা সিন্ডিকেট ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কোটি কোটি টাকার কাটমানি বা তোলা আদায়, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ নজরে ছিলেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই পুলিশি গ্রেফতারি এড়াতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। সম্প্রতি তিনি একটি গোপন স্থান থেকে ভিডিও বার্তা প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়। পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। গোপন সূত্রে খবর আসে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ঝাড়খণ্ডের মধুপুরে আত্মগোপন করে আছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই গত বৃহস্পতিবার রাতে অণ্ডাল পুলিশের বিশেষ দল ঝাড়খণ্ড পুলিশের সহযোগিতায় মধুপুরে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে কে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, বীর বাহাদুরের মতো নেতারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের একাংশের মদতে খনি অঞ্চলে তোলাবাজি ও সন্ত্রাস রাজ চালাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে খনি অঞ্চলের এই প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।