eaibanglai
Homeএই বাংলায়১২৮৮ বিঘার ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ‘গায়েব’! সগর ভাঙ্গায় জমি বিক্রি, দখল ও পরিবেশ...

১২৮৮ বিঘার ঐতিহ্যবাহী জলাশয় ‘গায়েব’! সগর ভাঙ্গায় জমি বিক্রি, দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে তোলপাড়

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- একসময় যে বিশাল জলাশয় ছিল এলাকার জলসংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য ও স্থানীয় জীবিকার অন্যতম ভরসা, আজ সেই ঐতিহ্যবাহী বাঁধ কার্যত অস্তিত্ব সংকটে। দুর্গাপুরের সগর ভাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন বন্ধ হয়ে যাওয়া ফার্টিলাইজার কারখানার প্রাচীরের ধারে, গোপীনাথপুর মৌজার প্রায় ১২৮৮ বিঘা জমির উপর অবস্থিত বিশাল জলাশয় (বাঁধ) নিয়ে এবার উঠছে গুরুতর অভিযোগ।

জানা গেছে, বহু পুরনো ঐতিহাসিক ওই জলাশয়ে সেইসময় পদ্ম চাষ হত। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে জলাশয় নষ্ট করে বছরের পর বছর ধরে বেআইনিভাবে জমি বিক্রি ও দখলদারির এক বৃহৎ চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, ২০১১ সালে, রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর থেকেই ধাপে ধাপে জলাশয় ভরাট ও নষ্ট করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ, এরপর কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ওই জমিকে “দেবোত্তর জমি” বলে প্রচার করে বিক্রির ছক কষে। প্রথমদিকে সাধারণ মানুষ জমি কিনতে আগ্রহ না দেখালেও পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলিম সম্প্রদায় মানুষ এনে সেখানে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে একাধিকবার প্রশাসন ও তৎকালীন শাসকদলের মন্ত্রীদের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি অভিযোগের আঙুল উঠেছে কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও তথাকথিত ভুয়ো কমিটির বিরুদ্ধেও। অভিযোগ, আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি সম্ভব নয় জেনেও শুধুমাত্র স্ট্যাম্প পেপারে “এক কলম” লিখে, মোটা টাকার বিনিময়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে।

ভূমি ও রাজস্ব দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় এই বিস্তীর্ণ জলাশয় জমির মালিকানা ছিল বর্ধমান রাজ পরিবারের হাতে। পরে বামফ্রন্ট আমলে, জমি সিলিং আইনের কারণে মূল মালিকপক্ষ সেই জমি ছাড়তে বাধ্য হয়। এরপর থেকেই জলাশয়ের জমির মালিকানা, ব্যবহার ও দখল নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে ওই এলাকায় বহু মানুষ বসবাস করলেও ওই জমিতে বৈধ রেজিস্ট্রি বা মিউটেশনের নথি নেই, অথচ তৃণমূল নেতাদের সহযোগিতায়, বিদ্যুৎ, পানীয় জল-সহ নাগরিক পরিষেবাও পৌঁছে গিয়েছে। এর ফলে একদিকে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা, অন্যদিকে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসীর একাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ওই জলাশয় এলাকার ভৌগোলিক গঠন অনেকটা গামলা আকৃতির হওয়ায় বর্ষাকালে জল জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা প্রবল। পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয়দের দাবি, একসময়ের বিশাল জলাশয় ধ্বংস হওয়ায় এলাকার প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও ওই জলাশয়ের মধ্যস্থলে প্রায় ১০০ বিঘা জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের বক্তব্য, সরকার উদ্যোগ নিলে সেখানে পুনরায় জলাশয় (বাঁধ) পুনর্গঠন, মাছ চাষ ও জলভিত্তিক জীবিকা প্রকল্প গড়ে তোলা সম্ভব। তাতে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে, তেমনই বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি বা বিতর্কিত জমি বেআইনিভাবে বিক্রি, কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দখলদারির অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জলাশয় পুনরুদ্ধারে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করুক। স্থানীয়দের কথায়, “এই বাঁধ শুধু জলাশয় ছিল না, এলাকার প্রাণ ছিল। সেটাকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments