এই বাংলায় দেশ ও বিদেশ

বিসিসিএল-এর পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে অবৈধ লটারির মিনি প্রেসের হদিস, কোটি টাকার টিকিট সহ ধৃত ১

By Eaibanglai - August 02, 2026
— Advertisement —
Advertisement
বিসিসিএল-এর পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে অবৈধ লটারির মিনি প্রেসের হদিস, কোটি টাকার টিকিট সহ ধৃত ১

বিশেষ প্রতিনিধি, ধানবাদ:- কয়লাঞ্চলের কোলিয়ারী আবাসনকে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে রমরমিয়ে চলছিল জাল লটারি টিকিটের বড়সড় কারবার। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার নিরসা মহকুমার অন্তর্গত চিরকুন্ডা থানা এলাকা থেকে এমনই এক আন্তঃরাজ্য লটারি চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (BCCL)-এর একটি পরিত্যক্ত আবাসনকে ব্যবহার করে চালানো হচ্ছিল এই অবৈধ মিনি প্রিন্টিং প্রেস। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের এক বিশেষ দল সেখানে আচমকা হানা দিয়ে আনুমানিক ১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের জাল ও নিষিদ্ধ লটারি টিকিট এবং আধুনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনায় মূল চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চিরকুন্ডা থানার বাবূডঙ্গাল মোড় সংলগ্ন ওই বিসিসিএল কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। কিন্তু ভেতরের ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ঘরের ভেতরে বসানো হয়েছিল বড় আকারের আধুনিক ডিজিটাল প্রিন্টিং মেশিন, কাটিং সরঞ্জাম ও নামী ব্র্যান্ডের লটারির লোগো তৈরির জন্য স্ক্রিন-প্রিন্টিং পরিকাঠামো।

ধানবাদের নিরসা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) লিলেশ্বর মাহাতোর নেতৃত্বে গঠিত পুলিশের একটি বিশেষ দল শুক্রবার গভীর রাতে ওই কোয়ার্টারে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রেসের কর্মীরা পালানোর চেষ্টা করলেও, ধাওয়া করে একজনকে পুলিশ আটক করে।

অভিযান শেষে পুলিশ সেখান থেকে প্রায় এক ট্রাক্টর বোঝাই নিখুঁতভাবে ছাপা জাল লটারি টিকিট বাজেয়াপ্ত করে। উদ্ধার হওয়া টিকিটের বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি। এছাড়া টিকিট কাটার দুটি বড় ডিজিটাল প্রিন্টার, ৮টি ছোট মেশিন, কাটিং ডিভাইস এবং বিপুল পরিমাণ ফাঁকা কাগজ ও উন্নত মানের কালি সিল করেছে পুলিশ।

ধৃত ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, এই কারখানার জাল লটারির নেটওয়ার্ক কেবল ধানবাদেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এখানে মূলত পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ও নামী লটারির হুবহু নকল টিকিট বেআইনিভাবে ছাপানো হতো। এরপর ট্রেনের মাধ্যমে বা সড়কপথে সেই জাল টিকিট প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় এজেন্টদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার এই অবৈধ চক্রটি পরিচালিত হচ্ছিল।

ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের মূল চক্রীর সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

 

— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement
— Advertisement —
Advertisement