নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- রাজ্যজুড়ে অগ্নিমূল্য সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর এবার ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেল ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরে। রবিবারের সাত সকালে মহকুমা শাসক , এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ দল একযোগে হানা দেয় শিল্পাঞ্চলের একাধিক প্রধান বাজারে। মূলত কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ কালোবাজারি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান।
প্রশাসনিক আধিকারিকরা সরাসরি খুচরো বিক্রেতা এবং আড়তদারদের মুখোমুখি হন। কোন সবজি কত দামে কেনা হয়েছে এবং তা কত লাভে বিক্রি হচ্ছে, তার রসিদ পরীক্ষা করা হয়। বেগুন, লঙ্কা ও টমেটোর মতো আকাশছোঁয়া দামের সবজিগুলোর ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়। সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস এবং অতিরিক্ত চড়া দামে বিক্রি হওয়া হাঁস ও পোল্ট্রির ডিমের দোকানেও কড়া জেরা চালান আধিকারিকরা।
এদিনের অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ওজনের স্বচ্ছতা যাচাই করা। ব্যবসায়ীরা যে ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র বা কাঁটা ব্যবহার করছেন, তা সরকারি নিয়ম মেনে ঠিকঠাক রয়েছে কি না এবং তার বার্ষিক রিনিউয়াল বা লাইসেন্স ঠিক আছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। পরিমাপে কারচুপি রুখতে বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয় এবং নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, গত জুলাই মাসের টানা ভারী বৃষ্টি এবং তার জেরে দক্ষিণবঙ্গের ফসলের খেত জলের তলায় চলে যাওয়াতেই এই মূল্যবৃদ্ধি। জোগান বা সাপ্লাই চেইনে ঘাটতি থাকার কারণেই পাইকারি বাজারে দাম বেশি। যদিও সাধারণ ক্রেতাদের বক্তব্য বৃষ্টির অজুহাতে অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছে করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে স্থায়ী স্বস্তি বজায় রাখতে আগামী দিনগুলোতেও এই ধরণের সারপ্রাইজ ভিজিট ও তদারকি জারি থাকবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।