এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- ট্রাইব্যুনালে কাজ করার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত নানা খামতি ও সমস্যার কথা আগেই জানিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের একাংশ। এবার সরাসরি মান্যতা ও পারিশ্রমিক বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখলেন ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, নির্বাচন কমিশন যে বেতন নির্দিষ্ট করেছে, তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা মাস কাজ করা প্রায় অসম্ভব।
সূত্রের খবর, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবে তাঁরা প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা, গাড়ি এবং বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে বিচারপতিদের বক্তব্য, এই ১ লক্ষ টাকার ওপর ৩৬ শতাংশ হারে ট্যাক্স বা কর দিতে হয়। ফলে কর কাটার পর প্রতিদিনের গড় রোজগার বা পারিশ্রমিক এসে দাঁড়ায় মাত্র ২,২০০ টাকার কাছাকাছি । বর্তমান বাজারদরে এবং বিপুল কাজের চাপের তুলনায় এই টাকা অত্যন্ত নগণ্য। তাই এই বর্তমান বেতন কাঠামোকে সরাসরি দ্বিগুণ করার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি পাঠিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে চিঠির একটি করে কপি পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনকেও।
সম্প্রতি এই ট্রাইব্যুনালে কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি সল্টলেকের বাড়ি থেকে তীব্র যানজট ও বেহাল রাস্তা ঠেলে প্রতিদিন জোকার ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতের সমস্যার কথা জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ রাস্তা যাতায়াতের ধকলের কারণে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে জানিয়ে তিনি ট্রাইব্যুনালের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার বা নিষ্কৃতি পাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। যদিও চিঠিতে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছিলেন যে, বাড়ি থেকে বা কাছাকাছি কোথাও বসে কাজ করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
অন্যদিকে, পরিকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি বেশ কিছু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি কারণেও ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। সুরক্ষার স্বার্থে তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত 'আধার কার্ড' (Aadhaar) ব্যবহার করে ট্রাইব্যুনালের পোর্টালে লগ-ইন করতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন।
এদিকে বিচারপতিদের এই বেতন বাড়ানোর চিঠিতে বেশ চাপে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রতি মাসে ট্রাইব্যুনালের খরচ ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার পেছনেই কমিশনকে ৩ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতিদের বেতন বাড়ানোর দাবি যদি মেনে নিতে হয়, তবে খরচের বহর আরও অনেকটাই বেড়ে যাবে। এখন দেখার, প্রধান বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের এই দাবি ও সমস্যার সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।