এই বাংলায় ওয়েব ডেস্ক ,কলকাতাঃ- থ্রি-ডি প্রজেকশন, লেজ়ার শো, আকাশছোঁয়া আতশবাজি আর গঙ্গার ঘাটে ঘাটে আরতি— দুর্গাপুজোর আবহকে এবার রাজ্যজুড়ে আরও জমজমাট করে তুলতে নজিরবিহীন কর্মসূচি হাতে নিল নবান্ন। কলকাতার রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন হয়ে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও দিঘার সমুদ্রসৈকত, সর্বত্রই উৎসবের রঙ ছড়িয়ে দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার পুণ্যলগ্নে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশেষ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওই দিন রেড রোড থেকে একটি খোলা জিপে চড়ে ইডেনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল। এছাড়াও মহালয়ার দিন রেড রোডে রাজ্যের ১২টি জেলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতে পৃথক পৃথক স্টল তৈরি করা হবে। যেখানে সংশ্লিষ্ট জেলার ঐতিহ্য ও শিল্পকলা প্রদর্শিত হবে। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিতে মাল্যদান এবং বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও থাকছে।
কলকাতার পাশাপাশি ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহোৎসব। স্থানীয় শিল্পী ও লোকসংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুর্গাপুরের গান্ধী ময়দানে ১১ ও ১২ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা, শিলিগুড়ির কাওয়াখালি প্রাঙ্গণে, কোচবিহার ও বিষ্ণুপুরে ১২ ও ১৩ অক্টোবর যথাক্রমে রাসমেলা ময়দান ও মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান হবে। মালদহ ও বহরমপুরে ১৩ ও ১৪ অক্টোবর যথাক্রমে বিবেকানন্দ প্রাঙ্গণ ও কিউ স্কয়ার ফিল্ডে ও নিউ দিঘায় ১৪ ও ১৫ অক্টোবর সমুদ্রসৈকতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুধু মাঠ বা মেলা প্রাঙ্গণ নয়, আগামী ১০ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতার গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের আলোয় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রিন্সেপ ঘাট, বাবুঘাট, কুমোরটুলি ঘাট, মিলেনিয়াম পার্ক এবং হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটে বিশেষ সাজসজ্জা করা হবে। মিলেনিয়াম পার্ক ও বাজেকদমতলা ঘাটে থাকবে বিভিন্ন নামী ব্যান্ড ও শিল্পীদের পরিবেশনা। এছাড়া গঙ্গার ৪টি নির্দিষ্ট ঘাটে হবে জমকালো 'গঙ্গা আরতি'। নদীর পাড়ে রেডিয়ো ইনস্টলেশনের মাধ্যমে মহালয়ার ঐতিহ্যবাহী মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচারেরও অভিনব ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
দুর্গোৎসবের আবহকে আরও নিবিড় করতে এবার 'আগমী' ও 'বিসর্জন'—এই দুই পর্বের জন্য দুটি পৃথক থিম সং তৈরি করছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। উৎসবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই গানগুলি বাজানো হবে। এবারের গোটা আয়োজনে পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জনপ্রিয় 'পৃথিবী' ব্যান্ডের মতো সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণ অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, আলো, গান আর লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে এবার পুজোয় রাজ্যবাসীকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে রাজ্য সরকার।